০৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হোসেনপুরে নববধূকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, ভিডিও বার্তায় তামান্নার দাবি ‘আমি নিজের ইচ্ছায় আইছি’

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:১৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৬

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিয়ের পর নববধূ তামান্না আক্তারকে মাইক্রোবাস থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তামান্না দাবি করেছেন, তিনি নিজের ইচ্ছায় ওই ব্যক্তির সঙ্গে গেছেন। তবে তাকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কি না, নাকি তিনি স্বেচ্ছায় গেছেন—এ বিষয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় নববধূকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ভিডিও বার্তায় তামান্না আক্তার বলেন, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। পারিবারিকভাবে তাদের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় তারা একসঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তামান্না বলেন, ‘আমি যেমনেই আইছি, জোর কইরা হউক, নিজের ইচ্ছায় হউক, যেমনেই হউক। আইছিতো আইছিই। এহন যদি যাইগাও, গেলেও তো আমার মান-সম্মান ফিরা আইতো না, আমার বাপ-মার মান-সম্মানও ফিরা আইতো না। গেইলেও কোনো লাভ নাই। আমি আইছি, এনেই থাকবাম।’

তবে ভিডিও বার্তায় তামান্না বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তাকে সেখানে কীভাবে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি স্বেচ্ছায় গেছেন নাকি তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনায় অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরটি ঘটনার পর থেকে বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার আবুল মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তারের সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার বিয়ে হয়।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন বর ও বরযাত্রীরা। পথিমধ্যে জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় তাদের গাড়ি থামিয়ে তামান্নাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। স্বজনদের পক্ষ থেকে তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হলেও পরে তামান্নার ফেসবুক ভিডিও বার্তায় দেওয়া বক্তব্যে ঘটনায় ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে।

তদন্তে স্পষ্ট হবে প্রকৃত ঘটনা

তামান্নার ভিডিও বার্তার পর পুরো ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি স্বেচ্ছায় কারও সঙ্গে গেছেন, নাকি কোনো চাপ বা ভয়ভীতির কারণে এমন বক্তব্য দিয়েছেন—তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং তামান্নার অবস্থানসহ অন্যান্য তথ্য যাচাই করলে বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে।

ঘটনাটি নিয়ে পুলিশি তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত

জাল দলিলে সরকারি জমি নামজারির প্রলোভন, বৃদ্ধের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

হোসেনপুরে নববধূকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, ভিডিও বার্তায় তামান্নার দাবি ‘আমি নিজের ইচ্ছায় আইছি’

আপডেট: ০৪:১৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিয়ের পর নববধূ তামান্না আক্তারকে মাইক্রোবাস থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তামান্না দাবি করেছেন, তিনি নিজের ইচ্ছায় ওই ব্যক্তির সঙ্গে গেছেন। তবে তাকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কি না, নাকি তিনি স্বেচ্ছায় গেছেন—এ বিষয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় নববধূকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ভিডিও বার্তায় তামান্না আক্তার বলেন, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। পারিবারিকভাবে তাদের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় তারা একসঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তামান্না বলেন, ‘আমি যেমনেই আইছি, জোর কইরা হউক, নিজের ইচ্ছায় হউক, যেমনেই হউক। আইছিতো আইছিই। এহন যদি যাইগাও, গেলেও তো আমার মান-সম্মান ফিরা আইতো না, আমার বাপ-মার মান-সম্মানও ফিরা আইতো না। গেইলেও কোনো লাভ নাই। আমি আইছি, এনেই থাকবাম।’

তবে ভিডিও বার্তায় তামান্না বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তাকে সেখানে কীভাবে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি স্বেচ্ছায় গেছেন নাকি তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনায় অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরটি ঘটনার পর থেকে বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার আবুল মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তারের সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার বিয়ে হয়।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন বর ও বরযাত্রীরা। পথিমধ্যে জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় তাদের গাড়ি থামিয়ে তামান্নাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। স্বজনদের পক্ষ থেকে তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হলেও পরে তামান্নার ফেসবুক ভিডিও বার্তায় দেওয়া বক্তব্যে ঘটনায় ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে।

তদন্তে স্পষ্ট হবে প্রকৃত ঘটনা

তামান্নার ভিডিও বার্তার পর পুরো ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি স্বেচ্ছায় কারও সঙ্গে গেছেন, নাকি কোনো চাপ বা ভয়ভীতির কারণে এমন বক্তব্য দিয়েছেন—তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং তামান্নার অবস্থানসহ অন্যান্য তথ্য যাচাই করলে বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে।

ঘটনাটি নিয়ে পুলিশি তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।