০১:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রেলওয়ে ডিজির পিএস নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও বিপুল সম্পদের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৪৪:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০২

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের (ডিজি) ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম, প্রভাব খাটানো, রেলের জমি লিজ ও উচ্ছেদ কার্যক্রমে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারীরা এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা সবক্ষেত্রে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি এবং আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বের করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের হলুদিয়া কৈয়াপাড়ার মৃত নবাব আলী ও ফাতেমা বেগম দম্পতির কনিষ্ঠ সন্তান নাসির উদ্দিন। মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০০৩ সালে এইচএসসি পাস করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

পরবর্তীতে ৩৩তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ রেলওয়েতে যোগ দেন তিনি। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে রেলওয়ের মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, ডিজির পিএস হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে নাসির উদ্দিন সংশ্লিষ্ট ডিজিকে এসএমএসের মাধ্যমে ওই পদে নিয়োগ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। এ সংক্রান্ত একটি এসএমএসের কপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে ওই এসএমএসের সত্যতা এবং পিএস হিসেবে নাসির উদ্দিনের নিয়োগ প্রক্রিয়া বিধিসম্মত ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ, প্রশাসনিক নথি ও নিয়োগসংক্রান্ত বিধিমালা পর্যালোচনা প্রয়োজন।

২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে কর্মকর্তা (ডিটিএ) হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অস্থায়ী লেবার সর্দার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি খুলনার সিঙ্গিয়া স্টেশনের গুডস ইয়ার্ডে মোদাচ্ছের আলীকে অস্থায়ী লেবার সর্দার হিসেবে নিয়োগ দিতে তিনি সিঙ্গিয়া স্টেশন মাস্টারকে নির্দেশ দেন। যদিও এ ধরনের নিয়োগের এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট স্টেশন মাস্টারের বলে কয়েকজন রেল কর্মকর্তা দাবি করেছেন।

পরে ১৬ ফেব্রুয়ারি স্টেশন মাস্টার মো. শরীফুজ্জামান ওই নিয়োগ দেন। তবে নিয়োগপত্রে মেয়াদ উল্লেখ ছিল না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, অর্থের বিনিময়ে ওই নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যশোর ও সিঙ্গিয়া স্টেশনেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল বলে জানা গেছে।

এসব অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

২০১৬ সালের জুলাইয়ে সহকারী স্টেশন মাস্টার পদে ২৫৭ জনের নিয়োগ ঘিরে অনিয়মের অভিযোগের কথাও সামনে এসেছে।

অভিযোগে বলা হয়, নিয়োগ তালিকা প্রকাশের আগে নম্বরের ট্যাবুলেশন শিট প্রস্তুত করা হয়নি এবং কোটা ব্যবস্থার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

এক চাকরিপ্রার্থীর অভিযোগ ছিল, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও চাহিদামতো ১০ লাখ টাকা দিতে না পারায় তার নিয়োগ হয়নি।

তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে নাসির উদ্দিনের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। অভিযোগের প্রকৃত চিত্র জানতে ওই সময়ের নিয়োগ কমিটির নথি, পরীক্ষার ফলাফল, ট্যাবুলেশন শিট এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাগজপত্র পর্যালোচনা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীদের দাবি, চাকরিতে যোগদানের পর তুলনামূলক অল্প সময়ে নাসির উদ্দিন বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

তার গ্রামের বাড়িতে ব্যয়বহুল ডুপ্লেক্স ভবন, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নিজ নামে বা বেনামে জমি ও প্লট এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে একটি রেস্টুরেন্ট থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।

এসব সম্পদের উৎস তার বৈধ আয় ও চাকরিজীবনের উপার্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

রেলের একজন কর্মচারী অতীতে এ বিষয়ে দুদকে অভিযোগ করেছিলেন বলেও দাবি রয়েছে। তবে ওই অভিযোগের বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নাসির উদ্দিনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অভিযোগ সামনে এসেছে। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাইদা পারভীনের পরিচয় হয় এবং ২০২৩ সালের ১৭ মে তাদের বিয়ে হয়। পরে ১ জুন বিয়েটি রেজিস্ট্রি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাইদা পারভীনের অভিযোগ, বিয়ের আগে নাসির উদ্দিন তার পূর্ববর্তী বৈবাহিক জীবনের তথ্য গোপন করেছিলেন। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন এটি নাসির উদ্দিনের তৃতীয় বিয়ে।

তার আরও অভিযোগ, বিয়ের পর ৩০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। ওই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি ও অশালীন ভাষায় যোগাযোগের অভিযোগ করেন তিনি।

২৫ মে ২০২৩ থেকে ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে গালিগালাজ, চরিত্রহনন ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন সাইদা পারভীন।

তবে ব্যক্তিগত জীবনসংক্রান্ত এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি, মামলা এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, নাসির উদ্দিনের পরিবার দীর্ঘদিন আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে তিনি সুবিধাজনক পদায়ন পেয়েছেন।

রেলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে একই জেলার বাসিন্দা হিসেবে দীর্ঘদিনের পরিচয় এবং রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব দাবির স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, রেলওয়ের বর্তমান মহাপরিচালকের হয়ে নাসির উদ্দিন অর্থ সংগ্রহ এবং বড় প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট ঠিকাদারি সিন্ডিকেটকে পাইয়ে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত।

তবে এ অভিযোগের সমর্থনে নির্ভরযোগ্য নথি বা আর্থিক লেনদেনের তথ্য প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে টেন্ডার নথি, ই-জিপি রেকর্ড, কার্যাদেশ, ঠিকাদারদের তালিকা, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীরা নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অভিযোগকারী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি করা হয়েছে।

বিশেষ করে লেবার সর্দার ও সহকারী স্টেশন মাস্টার নিয়োগ, রেলের জমি লিজ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম, ডিজির পিএস পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং নাসির উদ্দিনের সম্পদ অর্জনের বিষয়গুলো প্রশাসনিক ও আর্থিক নথির মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে নাসির উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তার বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর বিপরীতে তার ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রতিবেদনে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হবে।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। এসব অভিযোগ আদালত বা কোনো তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রমাণিত নয়। সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু

রেলওয়ে ডিজির পিএস নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও বিপুল সম্পদের অভিযোগ

আপডেট: ১২:৪৪:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের (ডিজি) ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম, প্রভাব খাটানো, রেলের জমি লিজ ও উচ্ছেদ কার্যক্রমে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারীরা এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা সবক্ষেত্রে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি এবং আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বের করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের হলুদিয়া কৈয়াপাড়ার মৃত নবাব আলী ও ফাতেমা বেগম দম্পতির কনিষ্ঠ সন্তান নাসির উদ্দিন। মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০০৩ সালে এইচএসসি পাস করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

পরবর্তীতে ৩৩তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ রেলওয়েতে যোগ দেন তিনি। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে রেলওয়ের মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, ডিজির পিএস হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে নাসির উদ্দিন সংশ্লিষ্ট ডিজিকে এসএমএসের মাধ্যমে ওই পদে নিয়োগ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। এ সংক্রান্ত একটি এসএমএসের কপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে ওই এসএমএসের সত্যতা এবং পিএস হিসেবে নাসির উদ্দিনের নিয়োগ প্রক্রিয়া বিধিসম্মত ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ, প্রশাসনিক নথি ও নিয়োগসংক্রান্ত বিধিমালা পর্যালোচনা প্রয়োজন।

২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে কর্মকর্তা (ডিটিএ) হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অস্থায়ী লেবার সর্দার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি খুলনার সিঙ্গিয়া স্টেশনের গুডস ইয়ার্ডে মোদাচ্ছের আলীকে অস্থায়ী লেবার সর্দার হিসেবে নিয়োগ দিতে তিনি সিঙ্গিয়া স্টেশন মাস্টারকে নির্দেশ দেন। যদিও এ ধরনের নিয়োগের এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট স্টেশন মাস্টারের বলে কয়েকজন রেল কর্মকর্তা দাবি করেছেন।

পরে ১৬ ফেব্রুয়ারি স্টেশন মাস্টার মো. শরীফুজ্জামান ওই নিয়োগ দেন। তবে নিয়োগপত্রে মেয়াদ উল্লেখ ছিল না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, অর্থের বিনিময়ে ওই নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যশোর ও সিঙ্গিয়া স্টেশনেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল বলে জানা গেছে।

এসব অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

২০১৬ সালের জুলাইয়ে সহকারী স্টেশন মাস্টার পদে ২৫৭ জনের নিয়োগ ঘিরে অনিয়মের অভিযোগের কথাও সামনে এসেছে।

অভিযোগে বলা হয়, নিয়োগ তালিকা প্রকাশের আগে নম্বরের ট্যাবুলেশন শিট প্রস্তুত করা হয়নি এবং কোটা ব্যবস্থার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

এক চাকরিপ্রার্থীর অভিযোগ ছিল, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও চাহিদামতো ১০ লাখ টাকা দিতে না পারায় তার নিয়োগ হয়নি।

তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে নাসির উদ্দিনের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। অভিযোগের প্রকৃত চিত্র জানতে ওই সময়ের নিয়োগ কমিটির নথি, পরীক্ষার ফলাফল, ট্যাবুলেশন শিট এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাগজপত্র পর্যালোচনা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীদের দাবি, চাকরিতে যোগদানের পর তুলনামূলক অল্প সময়ে নাসির উদ্দিন বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

তার গ্রামের বাড়িতে ব্যয়বহুল ডুপ্লেক্স ভবন, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নিজ নামে বা বেনামে জমি ও প্লট এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে একটি রেস্টুরেন্ট থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।

এসব সম্পদের উৎস তার বৈধ আয় ও চাকরিজীবনের উপার্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

রেলের একজন কর্মচারী অতীতে এ বিষয়ে দুদকে অভিযোগ করেছিলেন বলেও দাবি রয়েছে। তবে ওই অভিযোগের বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নাসির উদ্দিনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অভিযোগ সামনে এসেছে। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাইদা পারভীনের পরিচয় হয় এবং ২০২৩ সালের ১৭ মে তাদের বিয়ে হয়। পরে ১ জুন বিয়েটি রেজিস্ট্রি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাইদা পারভীনের অভিযোগ, বিয়ের আগে নাসির উদ্দিন তার পূর্ববর্তী বৈবাহিক জীবনের তথ্য গোপন করেছিলেন। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন এটি নাসির উদ্দিনের তৃতীয় বিয়ে।

তার আরও অভিযোগ, বিয়ের পর ৩০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। ওই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি ও অশালীন ভাষায় যোগাযোগের অভিযোগ করেন তিনি।

২৫ মে ২০২৩ থেকে ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে গালিগালাজ, চরিত্রহনন ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন সাইদা পারভীন।

তবে ব্যক্তিগত জীবনসংক্রান্ত এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি, মামলা এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, নাসির উদ্দিনের পরিবার দীর্ঘদিন আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে তিনি সুবিধাজনক পদায়ন পেয়েছেন।

রেলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে একই জেলার বাসিন্দা হিসেবে দীর্ঘদিনের পরিচয় এবং রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব দাবির স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, রেলওয়ের বর্তমান মহাপরিচালকের হয়ে নাসির উদ্দিন অর্থ সংগ্রহ এবং বড় প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট ঠিকাদারি সিন্ডিকেটকে পাইয়ে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত।

তবে এ অভিযোগের সমর্থনে নির্ভরযোগ্য নথি বা আর্থিক লেনদেনের তথ্য প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে টেন্ডার নথি, ই-জিপি রেকর্ড, কার্যাদেশ, ঠিকাদারদের তালিকা, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীরা নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অভিযোগকারী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি করা হয়েছে।

বিশেষ করে লেবার সর্দার ও সহকারী স্টেশন মাস্টার নিয়োগ, রেলের জমি লিজ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম, ডিজির পিএস পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং নাসির উদ্দিনের সম্পদ অর্জনের বিষয়গুলো প্রশাসনিক ও আর্থিক নথির মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে নাসির উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তার বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর বিপরীতে তার ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রতিবেদনে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হবে।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। এসব অভিযোগ আদালত বা কোনো তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রমাণিত নয়। সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।