১১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

শার্শায় মাছের মড়ক, দুই উদ্যোক্তার দাবি ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:০৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৮

শার্শায় যশোরের শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর সোনামুখো বিলের একটি মৎস্য ঘেরে ভয়াবহ মাছের মড়ক দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ঘেরে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এর সঙ্গে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির বিপুলসংখ্যক মাছ মারা গেছে বলে দাবি করেছেন ঘের মালিকরা।

মাছ মারা যাওয়ায় প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মৎস্য খামারটির দুই উদ্যোক্তা। আকস্মিক এ ঘটনায় তারা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

ঘের মালিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ আগস্ট শনিবার রাত ১টার দিকে হঠাৎ করে ঘেরের মাছ মারা যেতে শুরু করে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সকালে ঘেরজুড়ে অসংখ্য মরা মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়।

এএফ মৎস্য খামারটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন। তাদের দাবি, ঘেরে বিপুল পরিমাণ পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়েছিল। এর মধ্যে অনেক মাছ ইতোমধ্যে বাজারজাতের উপযোগী হয়ে উঠেছিল। কিন্তু আকস্মিকভাবে মাছ মারা যাওয়ায় তাদের দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ও পরিশ্রম বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

উদ্যোক্তারা জানান, মাছ চাষের জন্য বিভিন্ন খাদ্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বাকিতে মাছের খাবার নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক থেকেও ঋণ নেওয়া হয়েছে। মাছ মারা যাওয়ার পর এসব ঋণ ও বকেয়া পরিশোধ করা নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

তাদের দাবি, মৎস্য খামারটির ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় একশ পরিবার নির্ভরশীল। মাছের মড়কের কারণে শুধু দুই উদ্যোক্তাই নয়, খামারের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক, খাদ্য সরবরাহকারী ও অন্যান্য পরিবারের আয়-রোজগারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এই খামারে উৎপাদিত পাবদা মাছের একটি অংশ বিভিন্ন ব্যবসায়িক চ্যানেলের মাধ্যমে ভারতে যায়। ফলে স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি বাণিজ্যেও এই খামারের মাছ ভূমিকা রাখে বলে দাবি তাদের।

সরকারি কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের দাবি

এদিকে মাছ মারা যাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর, বিদ্যুৎ বিভাগ কিংবা পুলিশের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি বলে অভিযোগ করেছেন ঘের মালিকরা।

তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাছের মড়কের প্রকৃত কারণ নির্ণয়, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের সরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ঘের মালিকদের ধারণা, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পানিতে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার কারণে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা আরও কমে যাওয়ায় মাছগুলো মারা যেতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তারা।

বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য

এ বিষয়ে বেনাপোল সাব-জোনাল অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে সারাদেশেই লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির কারণে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বিরতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

ঘের মালিকরা বলেন, দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নিয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া না হলে তারা ঋণের বোঝা নিয়ে আরও বড় আর্থিক সংকটে পড়বেন। একই সঙ্গে খামারের ওপর নির্ভরশীল শতাধিক পরিবারের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়বে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজাসহ সাড়ে ৪ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

শার্শায় মাছের মড়ক, দুই উদ্যোক্তার দাবি ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি

আপডেট: ১০:০৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

শার্শায় যশোরের শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর সোনামুখো বিলের একটি মৎস্য ঘেরে ভয়াবহ মাছের মড়ক দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ঘেরে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এর সঙ্গে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির বিপুলসংখ্যক মাছ মারা গেছে বলে দাবি করেছেন ঘের মালিকরা।

মাছ মারা যাওয়ায় প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মৎস্য খামারটির দুই উদ্যোক্তা। আকস্মিক এ ঘটনায় তারা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

ঘের মালিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ আগস্ট শনিবার রাত ১টার দিকে হঠাৎ করে ঘেরের মাছ মারা যেতে শুরু করে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সকালে ঘেরজুড়ে অসংখ্য মরা মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়।

এএফ মৎস্য খামারটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন। তাদের দাবি, ঘেরে বিপুল পরিমাণ পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়েছিল। এর মধ্যে অনেক মাছ ইতোমধ্যে বাজারজাতের উপযোগী হয়ে উঠেছিল। কিন্তু আকস্মিকভাবে মাছ মারা যাওয়ায় তাদের দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ও পরিশ্রম বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

উদ্যোক্তারা জানান, মাছ চাষের জন্য বিভিন্ন খাদ্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বাকিতে মাছের খাবার নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক থেকেও ঋণ নেওয়া হয়েছে। মাছ মারা যাওয়ার পর এসব ঋণ ও বকেয়া পরিশোধ করা নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

তাদের দাবি, মৎস্য খামারটির ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় একশ পরিবার নির্ভরশীল। মাছের মড়কের কারণে শুধু দুই উদ্যোক্তাই নয়, খামারের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক, খাদ্য সরবরাহকারী ও অন্যান্য পরিবারের আয়-রোজগারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এই খামারে উৎপাদিত পাবদা মাছের একটি অংশ বিভিন্ন ব্যবসায়িক চ্যানেলের মাধ্যমে ভারতে যায়। ফলে স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি বাণিজ্যেও এই খামারের মাছ ভূমিকা রাখে বলে দাবি তাদের।

সরকারি কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের দাবি

এদিকে মাছ মারা যাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর, বিদ্যুৎ বিভাগ কিংবা পুলিশের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি বলে অভিযোগ করেছেন ঘের মালিকরা।

তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাছের মড়কের প্রকৃত কারণ নির্ণয়, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের সরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ঘের মালিকদের ধারণা, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পানিতে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার কারণে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা আরও কমে যাওয়ায় মাছগুলো মারা যেতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তারা।

বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য

এ বিষয়ে বেনাপোল সাব-জোনাল অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে সারাদেশেই লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির কারণে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বিরতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

ঘের মালিকরা বলেন, দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নিয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া না হলে তারা ঋণের বোঝা নিয়ে আরও বড় আর্থিক সংকটে পড়বেন। একই সঙ্গে খামারের ওপর নির্ভরশীল শতাধিক পরিবারের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়বে।