১২:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে পাচারের আগেই মুর্শিদাবাদে ১০ পিস্তল-২১০ গুলি জব্দ, তৃণমূল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৪

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৪৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের বিহার থেকে বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জব্দ করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০টি পিস্তল, সাতটি খালি ম্যাগাজিন ও ২১০ রাউন্ড গুলি। পিস্তলগুলোর মধ্যে দুটি নাইন এমএম, ছয়টি সেভেন এমএম এবং দুটি দেশি তৈরি হ্যান্ডমেড পিস্তল রয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) মুর্শিদাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার শচীন মক্কার এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার জানান, মুর্শিদাবাদের তৃণমূল কংগ্রেসের যুব নেতা পাপাই ঘোষ একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে পলাতক ছিলেন। সম্প্রতি জেলা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পাপাই ঘোষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২১ আগস্ট) বহরমপুর থানার পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে বাড়ি থেকে সাতটি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি ম্যাগাজিন ও ১৭০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ সময় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি এলাকায় অভিযান চালায় শক্তিপুর থানার পুলিশ। সেখানে আরও পাঁচটি পিস্তল ও ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো ভারতের বিহার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। এগুলো বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে মুর্শিদাবাদে আনা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি।

মুর্শিদাবাদ পুলিশ জানিয়েছে, বাংলাদেশে অস্ত্র পাচারের আগে এই এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা নতুন নয়। চলতি মাসেই জেলার জিয়াগঞ্জ ও উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযানে আরও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ১২ আগস্ট মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ থেকে সাতটি সেভেন এমএম পিস্তল, ১০টি খালি ম্যাগাজিন ও ৩৫টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এর পরদিন ১৩ আগস্ট পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

সাম্প্রতিক একাধিক অভিযানে বাংলাদেশে পাচারের আগে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্ত্র চোরাচালান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, পাচারচক্রের সঙ্গে কারা জড়িত এবং বাংলাদেশে কার কাছে এসব অস্ত্র পৌঁছানোর কথা ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে ভারতীয় পুলিশ।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজাসহ সাড়ে ৪ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

বাংলাদেশে পাচারের আগেই মুর্শিদাবাদে ১০ পিস্তল-২১০ গুলি জব্দ, তৃণমূল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৪

আপডেট: ১১:৪৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের বিহার থেকে বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জব্দ করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০টি পিস্তল, সাতটি খালি ম্যাগাজিন ও ২১০ রাউন্ড গুলি। পিস্তলগুলোর মধ্যে দুটি নাইন এমএম, ছয়টি সেভেন এমএম এবং দুটি দেশি তৈরি হ্যান্ডমেড পিস্তল রয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) মুর্শিদাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার শচীন মক্কার এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার জানান, মুর্শিদাবাদের তৃণমূল কংগ্রেসের যুব নেতা পাপাই ঘোষ একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে পলাতক ছিলেন। সম্প্রতি জেলা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পাপাই ঘোষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২১ আগস্ট) বহরমপুর থানার পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে বাড়ি থেকে সাতটি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি ম্যাগাজিন ও ১৭০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ সময় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি এলাকায় অভিযান চালায় শক্তিপুর থানার পুলিশ। সেখানে আরও পাঁচটি পিস্তল ও ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো ভারতের বিহার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। এগুলো বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে মুর্শিদাবাদে আনা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি।

মুর্শিদাবাদ পুলিশ জানিয়েছে, বাংলাদেশে অস্ত্র পাচারের আগে এই এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা নতুন নয়। চলতি মাসেই জেলার জিয়াগঞ্জ ও উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযানে আরও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ১২ আগস্ট মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ থেকে সাতটি সেভেন এমএম পিস্তল, ১০টি খালি ম্যাগাজিন ও ৩৫টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এর পরদিন ১৩ আগস্ট পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

সাম্প্রতিক একাধিক অভিযানে বাংলাদেশে পাচারের আগে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্ত্র চোরাচালান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, পাচারচক্রের সঙ্গে কারা জড়িত এবং বাংলাদেশে কার কাছে এসব অস্ত্র পৌঁছানোর কথা ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে ভারতীয় পুলিশ।