১০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

কাস্টমস বন্ডের রাজস্ব কর্মকর্তা মাসুমের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:১৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৯

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (উত্তর)-এর রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) বিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুমের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ফাইল আটকে রেখে অনৈতিক সুবিধা আদায়, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগকারী ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফাইল প্রক্রিয়াকরণ, প্রশাসনিক অনুমোদন, অডিট কার্যক্রম, শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার ও বন্ড লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চাপ সৃষ্টি করা হয়। বিশেষ করে ডিপলোমেটিক বন্ড ওয়্যারহাউসের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেট থেকে বদলি হয়ে ঢাকা (উত্তর) কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে যোগদানের পর বিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুম প্রশাসনিক রীতি ও জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘হেডকোয়ার্টার রাজস্ব কর্মকর্তা’ পদে দায়িত্ব নেন।

এরপর থেকে বিভিন্ন বন্ড প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল তাঁর দপ্তরে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি, অনুমোদন কিংবা লাইসেন্স-সংক্রান্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিতে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, ডিপলোমেটিক বন্ড ওয়্যারহাউসের কার্যক্রম পরিচালনাকে কেন্দ্র করে প্রতি মাসে প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি টাকা অবৈধভাবে আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক অনুমোদন, অডিট, শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার ও বন্ড লাইসেন্স নবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতে প্রমাণিত তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

বিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুম ও তাঁর পরিবারের ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগে বিশেষভাবে তাঁর স্ত্রী সানজিদা আফরিন লিপির নামে রাজধানীর ভাটারা মৌজায় জমি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩৭৫৬(IX-I) নম্বর নামজারি মামলার মাধ্যমে ওই সম্পত্তি তাঁর স্ত্রীর নামে হস্তান্তর করা হয়। স্ত্রী গৃহিণী হওয়ায় জমি কেনার অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, খতিয়ান নম্বর ২৯৭১৬ ও দাগ নম্বর ২০৭৬৩-এর মূল নামজারি খতিয়ানে জমির পরিমাণ ০.৪০০০ একর বা ৪০ শতাংশ উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে ডিজিটাল ভূমি রেকর্ডে একই দাগে ৪.৯৬ একর জমির তথ্য দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

জমির প্রকৃত মালিকানা, পরিমাণ এবং এর ক্রয়মূল্য ও অর্থের উৎস যাচাই করা হলে এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের মত।

এ ছাড়া খুলনার সোনাডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাসুমের পরিবারের নামে আরও স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি থাকার অভিযোগও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও মহল এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, তদন্তের আওতায় বিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুম ও তাঁর পরিবারের ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি, জমি ও অন্যান্য সম্পদের দলিল, বন্ড-সংক্রান্ত ফাইলের নোটিং এবং ডিপলোমেটিক ওয়্যারহাউসের আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

তারা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর কাছে অভিযোগগুলো যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কাস্টমস বন্ড ব্যবস্থা রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে শুল্ক ও কর সুবিধা দেওয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফাইল আটকে রাখা বা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ সত্য হলে তা ব্যবসা-বাণিজ্য ও রপ্তানি কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তবে বিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুমের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও তাঁর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজাসহ সাড়ে ৪ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

কাস্টমস বন্ডের রাজস্ব কর্মকর্তা মাসুমের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

আপডেট: ০৬:১৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (উত্তর)-এর রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) বিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুমের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ফাইল আটকে রেখে অনৈতিক সুবিধা আদায়, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগকারী ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফাইল প্রক্রিয়াকরণ, প্রশাসনিক অনুমোদন, অডিট কার্যক্রম, শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার ও বন্ড লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চাপ সৃষ্টি করা হয়। বিশেষ করে ডিপলোমেটিক বন্ড ওয়্যারহাউসের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেট থেকে বদলি হয়ে ঢাকা (উত্তর) কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে যোগদানের পর বিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুম প্রশাসনিক রীতি ও জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘হেডকোয়ার্টার রাজস্ব কর্মকর্তা’ পদে দায়িত্ব নেন।

এরপর থেকে বিভিন্ন বন্ড প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল তাঁর দপ্তরে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি, অনুমোদন কিংবা লাইসেন্স-সংক্রান্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিতে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, ডিপলোমেটিক বন্ড ওয়্যারহাউসের কার্যক্রম পরিচালনাকে কেন্দ্র করে প্রতি মাসে প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি টাকা অবৈধভাবে আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক অনুমোদন, অডিট, শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার ও বন্ড লাইসেন্স নবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতে প্রমাণিত তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

বিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুম ও তাঁর পরিবারের ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগে বিশেষভাবে তাঁর স্ত্রী সানজিদা আফরিন লিপির নামে রাজধানীর ভাটারা মৌজায় জমি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩৭৫৬(IX-I) নম্বর নামজারি মামলার মাধ্যমে ওই সম্পত্তি তাঁর স্ত্রীর নামে হস্তান্তর করা হয়। স্ত্রী গৃহিণী হওয়ায় জমি কেনার অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, খতিয়ান নম্বর ২৯৭১৬ ও দাগ নম্বর ২০৭৬৩-এর মূল নামজারি খতিয়ানে জমির পরিমাণ ০.৪০০০ একর বা ৪০ শতাংশ উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে ডিজিটাল ভূমি রেকর্ডে একই দাগে ৪.৯৬ একর জমির তথ্য দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

জমির প্রকৃত মালিকানা, পরিমাণ এবং এর ক্রয়মূল্য ও অর্থের উৎস যাচাই করা হলে এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের মত।

এ ছাড়া খুলনার সোনাডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাসুমের পরিবারের নামে আরও স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি থাকার অভিযোগও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও মহল এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, তদন্তের আওতায় বিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুম ও তাঁর পরিবারের ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি, জমি ও অন্যান্য সম্পদের দলিল, বন্ড-সংক্রান্ত ফাইলের নোটিং এবং ডিপলোমেটিক ওয়্যারহাউসের আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

তারা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর কাছে অভিযোগগুলো যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কাস্টমস বন্ড ব্যবস্থা রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে শুল্ক ও কর সুবিধা দেওয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফাইল আটকে রাখা বা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ সত্য হলে তা ব্যবসা-বাণিজ্য ও রপ্তানি কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তবে বিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুমের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও তাঁর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।