বেনাপোল প্রতিনিধি: অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চোখের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে যশোরের বেনাপোলে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির। রোটারি ক্লাব অব যশোরের আয়োজনে এবং দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন ও বি.এন.এস চক্ষু হাসপাতাল, খুলনার সহযোগিতায় এ মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের কার্যক্রম শুরু হয়। শিবিরে আসা রোগীদের বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী যেসব রোগীর চোখের অপারেশন প্রয়োজন, তাদের পরবর্তী সময়ে অপারেশনের মাধ্যমে লেন্স সংযোজনের (IOL) ব্যবস্থা করা হবে বলে আয়োজকরা জানান।
চক্ষু শিবিরে রোটারি ক্লাব অব যশোরের চিকিৎসক ডা. হাসিবুর রহমান ও ডা. সাদিয়া আফরিন উপস্থিত থেকে রোগীদের চোখ পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেন।

চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের অন্যতম উদ্যোক্তা ও সৌজন্যে ছিলেন রোটারিয়ান এ.কে.এম. আতিউজ্জামান সনি, সদস্য, রোটারি ক্লাব অব যশোর। তাঁর উদ্যোগে আয়োজিত এ মানবিক কর্মসূচিতে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল পৌর বিএনপির সহসভাপতি শাহাবুদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আখতারুজ্জামান, সহসভাপতি আবেদার আলী, যুগ্ম সম্পাদক মেহেরুল্লাহ, রোটারি ক্লাবের সদস্য রবিউল ইসলাম রবি, সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবি, বেনাপোল পৌর যুবদলের সদস্য সচিব রায়হানুজ্জামান দ্বীপু, বেনাপোল পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ওমর ফারুকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আয়োজকরা জানান, শিবিরে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে যাদের চোখের অপারেশন প্রয়োজন, তাদের তালিকা করে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অপারেশনের ব্যবস্থা করা হবে। বিশেষ করে অর্থের অভাবে যারা দীর্ঘদিন চোখের চিকিৎসা নিতে পারছেন না, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
স্থানীয়রা বলেন, দরিদ্র মানুষের জন্য চোখের চিকিৎসা অনেক সময় ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। ফলে অর্থের অভাবে অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন না। এ ধরনের বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা শিবির তাদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।
তারা আতিউজ্জামান সনির উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হলে উপকৃত হবেন এলাকার অনেক মানুষ।




















