প্রেসক্লাব যশোরের বিশেষ সাধারণ সভায় আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন ও অনুমোদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি, গঠনতন্ত্রের প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচিত কমিটি নির্ধারিত মেয়াদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবে না—এমন গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টায় প্রেসক্লাব যশোরের শহীদ সাংবাদিক গোলাম মাজেদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওহাবুজ্জামান ঝন্টু এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান।
সভা শুরুর আগে প্রয়াত সাংবাদিকদের পাশাপাশি দেশে-বিদেশে নিহত নিরীহ ও প্রতিবাদী মানুষের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন কার্যনির্বাহী সদস্য সাইফুর রহমান সাইফ এবং গীতা পাঠ করেন প্রদীপ কুমার ঘোষ।
সভায় সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান সংগঠনের কার্যক্রম তুলে ধরে সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদন নিয়ে সদস্যরা বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেন। আলোচনা শেষে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি একরাম উদ-দৌলাকে আহ্বায়ক এবং সিনিয়র সদস্য মবিনুল ইসলাম মবিনকে সদস্য সচিব করে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করে নবনির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে।
এছাড়া দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ গ্রহণ করবে আহ্বায়ক কমিটি। নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রেসক্লাবের নিয়মিত প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমও এই কমিটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।
বিশেষ সাধারণ সভায় প্রেসক্লাবের বর্তমান গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন অসংগতি ও ত্রুটি নিয়ে আলোচনা হয়। এসব সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচিত কমিটি নির্ধারিত মেয়াদের অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালন করতে পারবে না বলেও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। নবনির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সভাতেই পরবর্তী নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করবে।
তবে সভার শুরুতে বিগত কমিটির কার্যক্রম, সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলাকালে সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হলে কিছু সময়ের জন্য হট্টগোলের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে প্রেসক্লাবের প্রবীণ সদস্য ও সাবেক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সভা সম্পন্ন হয়।
সভায় বক্তব্য ও আলোচনায় অংশ নেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি একরাম উদ-দৌলা, ফকির শওকত, সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ারুল কবির নান্টু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান কবির, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, সিনিয়র সদস্য মবিনুল ইসলাম মবিন, বেনজিন খান, নূর ইসলাম, মনোতোষ বসু, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক কাজী আশরাফুল আজাদ, তৌহিদ জামান, হাবিবুর রহমান রিপন, সিকদার খালিদ, সাইফুল ইসলাম সজল, অসীম বোস, আব্দুল্লাহ হুসাইন, এম আইউব, এস এম সোহেল, তৌহিদ মনি, ফিরোজ গাজী, সরোয়ার হোসেন, জুয়েল মৃধা, আকরামুজ্জামান, মনিরুজ্জামান মুনীর, ইন্দ্রজিৎ রায়, মারুফ কবীরসহ প্রেসক্লাবের বিপুলসংখ্যক সদস্য।
আহ্বায়ক কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন—ফকির শওকত, বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, আনোয়ারুল কবির নান্টু, ওহাবুজ্জামান ঝন্টু, আহসান কবীর, আমিনুর রহমান মামুন, নূর ইসলাম, এস এম তৌহিদুর রহমান, সরোয়ার হোসেন, জাহিদ আহমেদ লিটন, এম আইউব ও আকরামুজ্জামান।




















