০১:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঠাকুরগাঁও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৫১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ৫৩৪

ঠাকুরগাঁও জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জনেরও অভিযোগ করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মামুন বিশ্বাস অবৈধভাবে সম্পদের পরিমাণ বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে ব্যক্তিগত কাজে নিয়মিত সরকারি গাড়ি ব্যবহারেরও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, সপ্তাহে দুই দিন ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহারের কারণে জ্বালানি বাবদ প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা, মাসে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং বছরে প্রায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ টাকা সরকারি অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মামুন বিশ্বাসের পরিবার ঢাকায় বসবাস করায় তিনি নিয়মিত বিমানযোগে যাতায়াত করেন। এ সময় তাঁর নিজ দপ্তরের সরকারি গাড়ির পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) গাড়িও ব্যবহারের অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কাজে এলজিইডির সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শফিউল আলম সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে শফিউল আলম পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।

অভিযোগকারীদের হিসাবে, বিমানযাত্রায় তাঁর সাপ্তাহিক ব্যয় প্রায় ১২ হাজার টাকা, মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা এবং বছরে প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। অথচ সরকারি চাকরির পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে বাড়িভাড়া বাবদ ১৭ হাজার টাকা বাদে তাঁর মাসিক বেতন প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

এ ছাড়া সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ না করে নিজের ইচ্ছামতো অফিসে আসা-যাওয়া করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, এতে দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যেও শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, কোনো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর বিলসংক্রান্ত ফাইলে স্বাক্ষর করাতে তাঁদের কাছ থেকে হাজার টাকা থেকে শুরু করে লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়। ঘুষ দিতে না চাইলে ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

এ ছাড়া কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের দাবি, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে মামুন বিশ্বাস দপ্তরে নিজের প্রভাব তৈরি করেছেন। তাঁর স্ত্রী ও স্বজনদের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ থাকার অভিযোগও তুলে তাঁরা বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও এ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারীর ভাষ্য, মামুন বিশ্বাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে তিনি দাবি করতেন। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে ভয় পান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, মামুন বিশ্বাস একসময় বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে নতুন রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার দাবিও করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

তবে এসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে এলজিইডির সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী ও বর্তমানে পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল আলম বলেন, “স্যার (মামুন বিশ্বাস) হয়তো ভুল করে ফেলেছেন, বিষয়টি এবারের মতো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখলে ভালো হতো।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য মামুন বিশ্বাস আর্থিক লেনদেনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, জবাবদিহিতার অভাব এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই অনেক সরকারি কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহারে জড়িয়ে পড়ছেন। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের সক্রিয় তদন্ত প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি কমানোর পাশাপাশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, সরকারি সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়মনীতি মেনে চলার জন্য সব সরকারি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের কোনো কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় ব্যবসায়ীর ২ বছরের কারাদণ্ড

ঠাকুরগাঁও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

আপডেট: ১০:৫১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

ঠাকুরগাঁও জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জনেরও অভিযোগ করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মামুন বিশ্বাস অবৈধভাবে সম্পদের পরিমাণ বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে ব্যক্তিগত কাজে নিয়মিত সরকারি গাড়ি ব্যবহারেরও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, সপ্তাহে দুই দিন ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহারের কারণে জ্বালানি বাবদ প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা, মাসে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং বছরে প্রায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ টাকা সরকারি অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মামুন বিশ্বাসের পরিবার ঢাকায় বসবাস করায় তিনি নিয়মিত বিমানযোগে যাতায়াত করেন। এ সময় তাঁর নিজ দপ্তরের সরকারি গাড়ির পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) গাড়িও ব্যবহারের অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কাজে এলজিইডির সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শফিউল আলম সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে শফিউল আলম পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।

অভিযোগকারীদের হিসাবে, বিমানযাত্রায় তাঁর সাপ্তাহিক ব্যয় প্রায় ১২ হাজার টাকা, মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা এবং বছরে প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। অথচ সরকারি চাকরির পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে বাড়িভাড়া বাবদ ১৭ হাজার টাকা বাদে তাঁর মাসিক বেতন প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

এ ছাড়া সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ না করে নিজের ইচ্ছামতো অফিসে আসা-যাওয়া করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, এতে দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যেও শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, কোনো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর বিলসংক্রান্ত ফাইলে স্বাক্ষর করাতে তাঁদের কাছ থেকে হাজার টাকা থেকে শুরু করে লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়। ঘুষ দিতে না চাইলে ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

এ ছাড়া কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের দাবি, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে মামুন বিশ্বাস দপ্তরে নিজের প্রভাব তৈরি করেছেন। তাঁর স্ত্রী ও স্বজনদের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ থাকার অভিযোগও তুলে তাঁরা বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও এ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারীর ভাষ্য, মামুন বিশ্বাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে তিনি দাবি করতেন। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে ভয় পান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, মামুন বিশ্বাস একসময় বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে নতুন রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার দাবিও করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

তবে এসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে এলজিইডির সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী ও বর্তমানে পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল আলম বলেন, “স্যার (মামুন বিশ্বাস) হয়তো ভুল করে ফেলেছেন, বিষয়টি এবারের মতো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখলে ভালো হতো।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য মামুন বিশ্বাস আর্থিক লেনদেনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, জবাবদিহিতার অভাব এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই অনেক সরকারি কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহারে জড়িয়ে পড়ছেন। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের সক্রিয় তদন্ত প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি কমানোর পাশাপাশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, সরকারি সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়মনীতি মেনে চলার জন্য সব সরকারি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের কোনো কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।