০৩:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পিংকি হত্যা মামলায় প্রেমিক অঙ্কুর একমাত্র আসামি, অব্যাহতির আবেদন বাবা-মা ও ভাইয়ের

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৪৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ৫২৯

যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রী জেসমিন আক্তার পিংকি হত্যা মামলায় তার প্রেমিক আহসান কবির অঙ্কুরকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে পুনঃচার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। একই সঙ্গে অঙ্কুরের বাবা আকবর আলী, মা হোসনেয়ারা বেগম ও ভাই রুমেলের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত শেষে সিআইডির পরিদর্শক সুব্রত কুমার পাল আদালতে এ পুনঃচার্জশিট দাখিল করেন। অভিযুক্ত আহসান কবির অঙ্কুর শার্শা উপজেলার দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের আকবর আলীর ছেলে। তিনি যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জেসমিন আক্তার পিংকি যশোর থেকে বাড়িতে ফিরবেন বলে ফোনে তার মাকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু ওই দিন তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় ৫ ফেব্রুয়ারি পিংকির বাবা জাকির হোসেন যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপর ১১ ফেব্রুয়ারি শার্শা উপজেলার বুরুজবাগান গ্রামের আকবর আলীর বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে পিংকির মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আনিছুর রহমান বাদী হয়ে শার্শা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় আকবর আলী, তার স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম এবং তাদের দুই ছেলে আহসান কবির অঙ্কুর ও রুমেলকে আসামি করা হয়।

প্রথম দফায় শার্শা থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত শেষে আহসান কবির অঙ্কুরকে অভিযুক্ত করে এবং অপর তিন আসামির অব্যাহতির সুপারিশসহ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। তবে ওই চার্জশিটের বিরুদ্ধে নিহতের ভাই আনিছুর রহমান নারাজি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত নারাজি আবেদনটি মঞ্জুর করে মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

এরপর সিআইডি মামলাটির পুনঃতদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহত পিংকির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি আহসান কবির অঙ্কুর, তার মা হোসনেয়ারা বেগম ও ভাই রুমেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

সিআইডি জানিয়েছে, পুনঃতদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং আদালতে দেওয়া জবানবন্দি পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডে আহসান কবির অঙ্কুরের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতেই তাকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে পুনঃচার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে অঙ্কুরের বাবা, মা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে।

মামলাটির পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

সর্বাধিক পঠিত

মাত্র ৫ লাখে অস্ট্রেলিয়া’—সামাজিক মাধ্যমে ভিসার প্রলোভন, প্রতারণার অভিযোগ

পিংকি হত্যা মামলায় প্রেমিক অঙ্কুর একমাত্র আসামি, অব্যাহতির আবেদন বাবা-মা ও ভাইয়ের

আপডেট: ১০:৪৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রী জেসমিন আক্তার পিংকি হত্যা মামলায় তার প্রেমিক আহসান কবির অঙ্কুরকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে পুনঃচার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। একই সঙ্গে অঙ্কুরের বাবা আকবর আলী, মা হোসনেয়ারা বেগম ও ভাই রুমেলের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত শেষে সিআইডির পরিদর্শক সুব্রত কুমার পাল আদালতে এ পুনঃচার্জশিট দাখিল করেন। অভিযুক্ত আহসান কবির অঙ্কুর শার্শা উপজেলার দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের আকবর আলীর ছেলে। তিনি যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জেসমিন আক্তার পিংকি যশোর থেকে বাড়িতে ফিরবেন বলে ফোনে তার মাকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু ওই দিন তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় ৫ ফেব্রুয়ারি পিংকির বাবা জাকির হোসেন যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপর ১১ ফেব্রুয়ারি শার্শা উপজেলার বুরুজবাগান গ্রামের আকবর আলীর বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে পিংকির মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আনিছুর রহমান বাদী হয়ে শার্শা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় আকবর আলী, তার স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম এবং তাদের দুই ছেলে আহসান কবির অঙ্কুর ও রুমেলকে আসামি করা হয়।

প্রথম দফায় শার্শা থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত শেষে আহসান কবির অঙ্কুরকে অভিযুক্ত করে এবং অপর তিন আসামির অব্যাহতির সুপারিশসহ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। তবে ওই চার্জশিটের বিরুদ্ধে নিহতের ভাই আনিছুর রহমান নারাজি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত নারাজি আবেদনটি মঞ্জুর করে মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

এরপর সিআইডি মামলাটির পুনঃতদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহত পিংকির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি আহসান কবির অঙ্কুর, তার মা হোসনেয়ারা বেগম ও ভাই রুমেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

সিআইডি জানিয়েছে, পুনঃতদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং আদালতে দেওয়া জবানবন্দি পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডে আহসান কবির অঙ্কুরের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতেই তাকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে পুনঃচার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে অঙ্কুরের বাবা, মা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে।

মামলাটির পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।