১২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাত্র ৫ লাখে অস্ট্রেলিয়া’—সামাজিক মাধ্যমে ভিসার প্রলোভন, প্রতারণার অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:০৩:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৪

‘মাত্র পাঁচ লাখ টাকায় অস্ট্রেলিয়া’, ‘লাগবে না IELTS’, ‘প্রয়োজন নেই শিক্ষাগত যোগ্যতার’, ‘আগে দিতে হবে মাত্র ৬০ হাজার টাকা, বাকি টাকা অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে’—এমন নানা প্রলোভন দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিসা ও চাকরির প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ‘আল সামস ভিসা সার্ভিস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকে বিভিন্ন আইডি, পেজ ও চ্যানেলের মাধ্যমে এসব প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রচারণায় অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পাশাপাশি মাসে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা বেতনের চাকরি এবং পরিবারসহ স্থায়ী হওয়ার সুযোগের কথাও বলা হচ্ছে। এমন প্রলোভনে পড়ে বাংলাদেশের শিক্ষিত বেকার তরুণদের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ায় থাকা প্রবাসীরাও অর্থ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অনুসন্ধানে অন্তত ২০ জনের প্রতারণার শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের কারও কাছ থেকে ১২ হাজার ৫০০ টাকা, কারও কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা এবং কারও কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেউ ফোনে সাড়া পাচ্ছেন না, আবার কেউ এক অফিস থেকে অন্য অফিসে ঘুরেও কোনো সমাধান পাচ্ছেন না।

অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা মো. ইসমাইল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি নিজেকে নোয়াখালীর বাসিন্দা দাবি করে জানান, মাত্র নয় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় যান। অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি পর্তুগাল, দুবাই, ওমান ও মালয়েশিয়াতেও তার অফিস রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বহু বাংলাদেশিকে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন।

তবে ইসমাইলের দাবি, বাংলাদেশে তাদের কোনো অফিস নেই। বাংলাদেশ থেকে যারা যোগাযোগ করেন, তাদের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক সেবার মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলা হয়।

ভিসার শর্ত নিয়ে প্রশ্ন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ‘মাত্র পাঁচ লাখ টাকায় অস্ট্রেলিয়া’, ‘IELTS ছাড়াই’, ‘শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই’ এবং ‘শুধু পাসপোর্ট দিয়ে যেকোনো দেশ থেকে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার’ দাবিগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অস্ট্রেলিয়ার ৪৮২ ভিসার সরকারি শর্ত পর্যালোচনার দাবি অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এসব দাবির বেশ কয়েকটির সঙ্গে প্রকৃত ভিসা ব্যবস্থার অসঙ্গতি রয়েছে।

‘আল সামস ভিসা সার্ভিস’-এর প্রচারণায় অস্ট্রেলিয়ার ওয়ার্ক ভিসা, ফ্যামিলি ভিসা এবং পরিবারসহ স্থায়ী হওয়ার সুযোগের কথা বলা হচ্ছে। কোথাও পাঁচ লাখ টাকা মোট খরচের কথা বলা হচ্ছে, আবার কোথাও প্রথম ধাপে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলা হচ্ছে।

এরপর জব লেটার, মেডিকেল পরীক্ষা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন ধাপে আরও অর্থ নেওয়ার কথা বলা হয়। পাশাপাশি এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার আশ্বাসও দেওয়া হচ্ছে।

অনুসন্ধানে ভুয়া নথি দিয়েও অর্থ চাওয়ার অভিযোগ

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ছদ্মনামে ইসমাইলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাংলাদেশে তাদের কোনো অফিস নেই। অস্ট্রেলিয়া যেতে হলে তাকে বিশ্বাস করে ধাপে ধাপে টাকা দিতে হবে বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিকভাবে পাসপোর্টের কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা পাঠাতে বলা হয়। কাগজপত্র যাচাইয়ের পর পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে বলে তিনি জানান।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিক রেখে বাকি কিছু নথি কৃত্রিমভাবে তৈরি করে পাঠানো হয়। উদ্দেশ্য ছিল, কথিত প্রতিষ্ঠানটি নথিগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কি না, তা দেখা। তবে কিছুক্ষণ পরই অর্থ পাঠানোর নির্দেশনা আসে বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।

‘আল সামস ভিসা সার্ভিস’ নামে একটি ইমু আইডি থেকে সিটি ব্যাংকের নাটোর শাখার একটি হিসাব নম্বর দেওয়া হয়। হিসাবটির মালিক হিসেবে মো. আবুল হোসেনের নাম উল্লেখ করে আবেদন বাবদ ১২ হাজার ৫০০ টাকা পাঠাতে বলা হয়।

এতে নথি যাচাইয়ের আগেই অর্থ চাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।

পরে ইসমাইলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে টাকা না পাঠানোয় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ওই ব্যাংক হিসাবের মালিকের ফোন নম্বর না থাকায় টাকা পাঠানো হয়নি বলে জানানো হলে পরবর্তীতে তিনি আরেকটি ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেন।

একাধিক ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের অভিযোগ

গত সোমবার দেওয়া ওই হিসাবটি প্রাইম ব্যাংক পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের বলে জানানো হয়। হিসাবটির মালিক মো. আল আমিন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ইসমাইল তার চাচাতো ভাই।

আল আমিনের বাড়ি নোয়াখালীতে হলেও বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ সদরে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন বলে জানান। তার মাধ্যমে বহু যুবক ইসমাইলের কাছে টাকা পাঠিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তার দাবি, ইসমাইলের মাধ্যমে অনেক যুবক অস্ট্রেলিয়ায় গেছেন।

তবে অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে আরও জানা গেছে, শুধু এক বা দুটি ব্যাংক হিসাব নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা একাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ নেওয়া হতে পারে। এসব হিসাব থেকে বিভিন্ন আর্থিক সেবার মাধ্যমে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন প্রলোভন ছড়ানো এবং এর মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সর্বাধিক পঠিত

মাত্র ৫ লাখে অস্ট্রেলিয়া’—সামাজিক মাধ্যমে ভিসার প্রলোভন, প্রতারণার অভিযোগ

মাত্র ৫ লাখে অস্ট্রেলিয়া’—সামাজিক মাধ্যমে ভিসার প্রলোভন, প্রতারণার অভিযোগ

আপডেট: ১২:০৩:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘মাত্র পাঁচ লাখ টাকায় অস্ট্রেলিয়া’, ‘লাগবে না IELTS’, ‘প্রয়োজন নেই শিক্ষাগত যোগ্যতার’, ‘আগে দিতে হবে মাত্র ৬০ হাজার টাকা, বাকি টাকা অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে’—এমন নানা প্রলোভন দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিসা ও চাকরির প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ‘আল সামস ভিসা সার্ভিস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকে বিভিন্ন আইডি, পেজ ও চ্যানেলের মাধ্যমে এসব প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রচারণায় অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পাশাপাশি মাসে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা বেতনের চাকরি এবং পরিবারসহ স্থায়ী হওয়ার সুযোগের কথাও বলা হচ্ছে। এমন প্রলোভনে পড়ে বাংলাদেশের শিক্ষিত বেকার তরুণদের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ায় থাকা প্রবাসীরাও অর্থ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অনুসন্ধানে অন্তত ২০ জনের প্রতারণার শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের কারও কাছ থেকে ১২ হাজার ৫০০ টাকা, কারও কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা এবং কারও কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেউ ফোনে সাড়া পাচ্ছেন না, আবার কেউ এক অফিস থেকে অন্য অফিসে ঘুরেও কোনো সমাধান পাচ্ছেন না।

অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা মো. ইসমাইল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি নিজেকে নোয়াখালীর বাসিন্দা দাবি করে জানান, মাত্র নয় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় যান। অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি পর্তুগাল, দুবাই, ওমান ও মালয়েশিয়াতেও তার অফিস রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বহু বাংলাদেশিকে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন।

তবে ইসমাইলের দাবি, বাংলাদেশে তাদের কোনো অফিস নেই। বাংলাদেশ থেকে যারা যোগাযোগ করেন, তাদের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক সেবার মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলা হয়।

ভিসার শর্ত নিয়ে প্রশ্ন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ‘মাত্র পাঁচ লাখ টাকায় অস্ট্রেলিয়া’, ‘IELTS ছাড়াই’, ‘শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই’ এবং ‘শুধু পাসপোর্ট দিয়ে যেকোনো দেশ থেকে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার’ দাবিগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অস্ট্রেলিয়ার ৪৮২ ভিসার সরকারি শর্ত পর্যালোচনার দাবি অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এসব দাবির বেশ কয়েকটির সঙ্গে প্রকৃত ভিসা ব্যবস্থার অসঙ্গতি রয়েছে।

‘আল সামস ভিসা সার্ভিস’-এর প্রচারণায় অস্ট্রেলিয়ার ওয়ার্ক ভিসা, ফ্যামিলি ভিসা এবং পরিবারসহ স্থায়ী হওয়ার সুযোগের কথা বলা হচ্ছে। কোথাও পাঁচ লাখ টাকা মোট খরচের কথা বলা হচ্ছে, আবার কোথাও প্রথম ধাপে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলা হচ্ছে।

এরপর জব লেটার, মেডিকেল পরীক্ষা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন ধাপে আরও অর্থ নেওয়ার কথা বলা হয়। পাশাপাশি এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার আশ্বাসও দেওয়া হচ্ছে।

অনুসন্ধানে ভুয়া নথি দিয়েও অর্থ চাওয়ার অভিযোগ

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ছদ্মনামে ইসমাইলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাংলাদেশে তাদের কোনো অফিস নেই। অস্ট্রেলিয়া যেতে হলে তাকে বিশ্বাস করে ধাপে ধাপে টাকা দিতে হবে বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিকভাবে পাসপোর্টের কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা পাঠাতে বলা হয়। কাগজপত্র যাচাইয়ের পর পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে বলে তিনি জানান।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিক রেখে বাকি কিছু নথি কৃত্রিমভাবে তৈরি করে পাঠানো হয়। উদ্দেশ্য ছিল, কথিত প্রতিষ্ঠানটি নথিগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কি না, তা দেখা। তবে কিছুক্ষণ পরই অর্থ পাঠানোর নির্দেশনা আসে বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।

‘আল সামস ভিসা সার্ভিস’ নামে একটি ইমু আইডি থেকে সিটি ব্যাংকের নাটোর শাখার একটি হিসাব নম্বর দেওয়া হয়। হিসাবটির মালিক হিসেবে মো. আবুল হোসেনের নাম উল্লেখ করে আবেদন বাবদ ১২ হাজার ৫০০ টাকা পাঠাতে বলা হয়।

এতে নথি যাচাইয়ের আগেই অর্থ চাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।

পরে ইসমাইলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে টাকা না পাঠানোয় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ওই ব্যাংক হিসাবের মালিকের ফোন নম্বর না থাকায় টাকা পাঠানো হয়নি বলে জানানো হলে পরবর্তীতে তিনি আরেকটি ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেন।

একাধিক ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের অভিযোগ

গত সোমবার দেওয়া ওই হিসাবটি প্রাইম ব্যাংক পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের বলে জানানো হয়। হিসাবটির মালিক মো. আল আমিন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ইসমাইল তার চাচাতো ভাই।

আল আমিনের বাড়ি নোয়াখালীতে হলেও বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ সদরে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন বলে জানান। তার মাধ্যমে বহু যুবক ইসমাইলের কাছে টাকা পাঠিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তার দাবি, ইসমাইলের মাধ্যমে অনেক যুবক অস্ট্রেলিয়ায় গেছেন।

তবে অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে আরও জানা গেছে, শুধু এক বা দুটি ব্যাংক হিসাব নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা একাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ নেওয়া হতে পারে। এসব হিসাব থেকে বিভিন্ন আর্থিক সেবার মাধ্যমে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন প্রলোভন ছড়ানো এবং এর মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।