যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার হওয়া চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমনকে’ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে যশোর থেকে তাকে চট্টগ্রামে এনে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে রিমান্ড আবেদনের বিষয়ে আদালত আদেশ দেবেন।
দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সন্ত্রাসী ‘ধামা ইলিয়াস’ পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘বড় সাজ্জাদ’-এর অনুসারী ডেভিড ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও জানান, গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর তাকে গ্রেপ্তারে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। তবে ডেভিড ইমন বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় তাকে ধরতে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অবশেষে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে চার সহযোগীসহ ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তলসহ বিভিন্ন দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
একই সময়ে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ডেভিড ইমনের সহযোগী মোহাম্মদ রায়হানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রায়হান পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ আরও বলছে, মোহাম্মদ রায়হান ও ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘বড় সাজ্জাদ’-এর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন। পাশাপাশি টার্গেট কিলিং বা সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যার মাধ্যমে তারা চট্টগ্রামে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন বলে দাবি পুলিশের।
গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তথ্য এবং চট্টগ্রামে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এখন আদালতের আদেশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুলিশ।





















