ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, তাঁর ছেলে জাকির হোসেন জুমন এবং সাবেক প্রধান বনসংরক্ষক (সিসিএফ) আমির হোসাইনের বিরুদ্ধে নিয়োগ ও বদলি-বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে সম্প্রতি বন অধিদপ্তরের প্রধান বনসংরক্ষকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আখতারুল ইসলাম সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, তাঁর ছেলে জাকির হোসেন জুমন এবং সাবেক প্রধান বনসংরক্ষক আমির হোসাইনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বন ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শাহাব উদ্দিনের মেয়াদকালে বন অধিদপ্তরে নিয়োগ ও বদলি ঘিরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক মন্ত্রীর ছেলে জাকির হোসেন জুমন, তৎকালীন প্রধান বনসংরক্ষক আমির হোসাইনসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে বদলি ও পদায়নে অনিয়ম করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করছে দুদক।
দুদকের চিঠিতে সাবেক প্রধান বনসংরক্ষক আমির হোসাইনের দায়িত্বকালীন বিভিন্ন রেঞ্জ ও বন চেকপোস্টে কর্মকর্তাদের পদায়নের অফিস আদেশ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগের বদলি আদেশ, বন বিভাগের বদলি নীতিমালা এবং বিভিন্ন বন বিভাগে দুই বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত কর্মকর্তাদের তালিকা চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, কুমিল্লা, ঢাকা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন বন বিভাগ, সদর রেঞ্জ এবং ফরেস্ট চেক স্টেশনে কর্মরত কর্মকর্তাদের পদায়নসংক্রান্ত তথ্যও চেয়েছে কমিশন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম বুধবার বিকেলে জানান, সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, তাঁর ছেলে জাকির হোসেন জুমন এবং সাবেক প্রধান বনসংরক্ষক আমির হোসাইনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত চলছে।
তিনি বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং নিয়োগ ও বদলি-বাণিজ্যসহ আরও কিছু অভিযোগ কমিশনের হাতে এসেছে। অনুসন্ধানে কিছু অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। কয়েকটি অভিযোগে এরই মধ্যে মামলা হয়েছে এবং অন্য অভিযোগগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয়, তা তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।





















