০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামায়াতের জোটে টানাপোড়েন, এনসিপিকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আলোচনা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫৫:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ৫৩৬

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে টানাপোড়েনের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে যাবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কওমি ঘরানার কয়েকটি ইসলামি দলের সঙ্গে এনসিপির যোগাযোগ এবং হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে সাতটি ইসলামি দলের নতুন করে ঐক্যের প্রচেষ্টা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন জোটের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দল নিয়ে প্রাথমিকভাবে যে রাজনৈতিক জোটের যাত্রা শুরু হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে এনসিপি, এবি পার্টি ও এলডিপির যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে সেটি ১১ দলীয় জোটে রূপ নেয়। তবে আসন সমঝোতা নিয়ে মতবিরোধের কারণে নির্বাচনের আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে সরে যায়।

জাতীয় নির্বাচনের পর জোটের নেতৃত্ব, রাজনৈতিক কৌশল ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে শরিকদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। এর মধ্যে গত ২৫ জুলাই খেলাফত মজলিস আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়। দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ পরিস্থিতিতে এনসিপির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে জামায়াতের সঙ্গে বর্তমান জোটে থাকা, নাকি নতুন কোনো রাজনৈতিক মেরুকরণে যুক্ত হওয়া—এ দুটি সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, কওমি ঘরানার কয়েকটি ইসলামি দলের সঙ্গে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। এসব আলোচনায় রাজনৈতিক সংস্কার, বিচার, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমন্বয়ের বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। তবে এসব আলোচনার ভিত্তিতে এখনই কোনো চূড়ান্ত জোটের সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন তথ্য নিশ্চিত হয়নি।

এদিকে ইসলামপন্থী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির উদ্যোগও দৃশ্যমান হয়েছে। গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে কওমি ধারার সাতটি ইসলামি দলের নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে ভবিষ্যতে একসঙ্গে পথচলা, রাজনৈতিক ঐক্য এবং সম্ভাব্য নতুন প্ল্যাটফর্ম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই উদ্যোগ পরবর্তী সময়ে নতুন রাজনৈতিক জোটে রূপ নিতে পারে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের বক্তব্য অনুযায়ী, এনসিপির নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। তবে তারা নতুন কোনো উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জোটে ভাঙন কিংবা শরিকদের মধ্যে দূরত্বকে বড় সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে না। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জোটের ভেতরে কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। এনসিপির রাজনৈতিক তৎপরতাকে তিনি দলটির নিজস্ব বিষয় হিসেবেই দেখছেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখেও এনসিপি সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে দলটি ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণসহ পাঁচটি সিটি করপোরেশনে প্রাথমিক মেয়রপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। ঢাকার দক্ষিণে মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং উত্তরে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী করা হয়েছে; রাজশাহী, কুমিল্লা ও সিলেটেও প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

দলীয় সূত্রের দাবি, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হলে রাজধানীর দুই সিটির প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এনসিপির আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশিত হয়নি।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারও জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং সিটি নির্বাচনে জোটগত অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে খেলাফত মজলিসের জোটত্যাগ, কওমি ঘরানার ইসলামি দলগুলোর নতুন ঐক্য প্রচেষ্টা এবং এনসিপির সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের যোগাযোগ—এই তিনটি বিষয় বাংলাদেশের ইসলামপন্থী রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এনসিপি শেষ পর্যন্ত জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকবে, নাকি নতুন কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যাবে, তা নির্ভর করবে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় ব্যবসায়ীর ২ বছরের কারাদণ্ড

জামায়াতের জোটে টানাপোড়েন, এনসিপিকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আলোচনা

আপডেট: ০৯:৫৫:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে টানাপোড়েনের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে যাবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কওমি ঘরানার কয়েকটি ইসলামি দলের সঙ্গে এনসিপির যোগাযোগ এবং হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে সাতটি ইসলামি দলের নতুন করে ঐক্যের প্রচেষ্টা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন জোটের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দল নিয়ে প্রাথমিকভাবে যে রাজনৈতিক জোটের যাত্রা শুরু হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে এনসিপি, এবি পার্টি ও এলডিপির যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে সেটি ১১ দলীয় জোটে রূপ নেয়। তবে আসন সমঝোতা নিয়ে মতবিরোধের কারণে নির্বাচনের আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে সরে যায়।

জাতীয় নির্বাচনের পর জোটের নেতৃত্ব, রাজনৈতিক কৌশল ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে শরিকদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। এর মধ্যে গত ২৫ জুলাই খেলাফত মজলিস আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়। দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ পরিস্থিতিতে এনসিপির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে জামায়াতের সঙ্গে বর্তমান জোটে থাকা, নাকি নতুন কোনো রাজনৈতিক মেরুকরণে যুক্ত হওয়া—এ দুটি সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, কওমি ঘরানার কয়েকটি ইসলামি দলের সঙ্গে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। এসব আলোচনায় রাজনৈতিক সংস্কার, বিচার, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমন্বয়ের বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। তবে এসব আলোচনার ভিত্তিতে এখনই কোনো চূড়ান্ত জোটের সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন তথ্য নিশ্চিত হয়নি।

এদিকে ইসলামপন্থী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির উদ্যোগও দৃশ্যমান হয়েছে। গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে কওমি ধারার সাতটি ইসলামি দলের নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে ভবিষ্যতে একসঙ্গে পথচলা, রাজনৈতিক ঐক্য এবং সম্ভাব্য নতুন প্ল্যাটফর্ম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই উদ্যোগ পরবর্তী সময়ে নতুন রাজনৈতিক জোটে রূপ নিতে পারে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের বক্তব্য অনুযায়ী, এনসিপির নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। তবে তারা নতুন কোনো উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জোটে ভাঙন কিংবা শরিকদের মধ্যে দূরত্বকে বড় সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে না। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জোটের ভেতরে কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। এনসিপির রাজনৈতিক তৎপরতাকে তিনি দলটির নিজস্ব বিষয় হিসেবেই দেখছেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখেও এনসিপি সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে দলটি ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণসহ পাঁচটি সিটি করপোরেশনে প্রাথমিক মেয়রপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। ঢাকার দক্ষিণে মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং উত্তরে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী করা হয়েছে; রাজশাহী, কুমিল্লা ও সিলেটেও প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

দলীয় সূত্রের দাবি, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হলে রাজধানীর দুই সিটির প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এনসিপির আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশিত হয়নি।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারও জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং সিটি নির্বাচনে জোটগত অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে খেলাফত মজলিসের জোটত্যাগ, কওমি ঘরানার ইসলামি দলগুলোর নতুন ঐক্য প্রচেষ্টা এবং এনসিপির সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের যোগাযোগ—এই তিনটি বিষয় বাংলাদেশের ইসলামপন্থী রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এনসিপি শেষ পর্যন্ত জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকবে, নাকি নতুন কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যাবে, তা নির্ভর করবে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।