০১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

‘রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে ফ্যামিলি কার্ড দেব’

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:১৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৫

নরসিংদীর শিবপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আকন্দের বিরুদ্ধে এক নারীকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে গভীর রাতে দেখা করার কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগকারী নারী দাবি করেন, পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আকন্দ তাকে রাত ১২টার দিকে পুকুরপাড়ে দেখা করতে বলেন। বিনিময়ে একটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও ওই নেতার কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় সরকার ঘোষিত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও সুযোগ-সুবিধা থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) অভিযোগসংবলিত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওটির সত্যতা ও অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আশরাফ উদ্দিন আকন্দ। তিনি বলেন, “আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে আমার দলেরই কিছু লোকের প্ররোচনায় পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রায় পাঁচ মাস আগে আমার পা ভেঙে যায়। এখনো পুরোপুরি সুস্থ নই। এমন অবস্থায় রাত ১২টার সময় পুকুরপাড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”

তিনি আরও দাবি করেন, অভিযোগকারী নারী মাছিমপুর ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। ঈদের সময় তিনি তার কাছে কাপড় ও চালের স্লিপ চেয়েছিলেন। তা দিতে না পারার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আনা হচ্ছে।

এ বিষয়ে শিবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি তিনি দেখেছেন এবং আশরাফ উদ্দিন তার সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জাকির হোসেন আরও বলেন, “তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্ররোচনায় মিথ্যা অভিযোগ করা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোল ইমিগ্রেশনে ২টি স্বর্ণবারসহ পাসপোর্টযাত্রী আটক, জব্দ স্বর্ণের মূল্য প্রায় ২২ লাখ টাকা

‘রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে ফ্যামিলি কার্ড দেব’

আপডেট: ১০:১৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

নরসিংদীর শিবপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আকন্দের বিরুদ্ধে এক নারীকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে গভীর রাতে দেখা করার কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগকারী নারী দাবি করেন, পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আকন্দ তাকে রাত ১২টার দিকে পুকুরপাড়ে দেখা করতে বলেন। বিনিময়ে একটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও ওই নেতার কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় সরকার ঘোষিত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও সুযোগ-সুবিধা থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) অভিযোগসংবলিত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওটির সত্যতা ও অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আশরাফ উদ্দিন আকন্দ। তিনি বলেন, “আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে আমার দলেরই কিছু লোকের প্ররোচনায় পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রায় পাঁচ মাস আগে আমার পা ভেঙে যায়। এখনো পুরোপুরি সুস্থ নই। এমন অবস্থায় রাত ১২টার সময় পুকুরপাড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”

তিনি আরও দাবি করেন, অভিযোগকারী নারী মাছিমপুর ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। ঈদের সময় তিনি তার কাছে কাপড় ও চালের স্লিপ চেয়েছিলেন। তা দিতে না পারার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আনা হচ্ছে।

এ বিষয়ে শিবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি তিনি দেখেছেন এবং আশরাফ উদ্দিন তার সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জাকির হোসেন আরও বলেন, “তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্ররোচনায় মিথ্যা অভিযোগ করা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।