০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৪

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা নূর নবীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য এবং অফিসের গোপন তথ্য বাইরে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে মেয়ের নামে প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সরবরাহে বাধ্য করা এবং বিভিন্ন সরকারি কাজ থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগ এনে সম্প্রতি দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোহরা সুলতানা যূথীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আসাদুল নামে এক ব্যক্তি।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নূর নবী বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। চাকরির পাশাপাশি মেয়ের নামে ‘তাসফিয়া এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন ঠিকাদারকে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী কিনতে বাধ্য করা হতো।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে সরকারি কাজের বিপরীতে কমিশন গ্রহণ করতেন নূর নবী। এতে স্থানীয় লিটন মেম্বারের কাছ থেকে বালু সরবরাহের কমিশন এবং রুবেল মিস্ত্রি ও কালাম মিস্ত্রির কাছ থেকে সরকারি নির্মাণকাজের কমিশন নেওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এভাবে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

এছাড়া উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ তথ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে সরবরাহ করার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগে তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

লিখিত অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নূর নবী বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। নিজের, স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনের নামে ফ্ল্যাট ও জমি কেনার পাশাপাশি উপজেলার গড়াসিন ও নাল্লাপাড়া এলাকায় স্ত্রীর নামে জমি কিনে দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আটিয়া ইউনিয়নের এক ভূমি সহকারী কর্মকর্তার সহযোগিতা পাওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, নূর নবীর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। তবে প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা নূর নবী। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। আমি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই।”

এ বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সর্বাধিক পঠিত

আড়াই বছর ভারতীয় কারাগারে থাকার পর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন ৫ বাংলাদেশি নারী

দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট: ০৪:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা নূর নবীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য এবং অফিসের গোপন তথ্য বাইরে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে মেয়ের নামে প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সরবরাহে বাধ্য করা এবং বিভিন্ন সরকারি কাজ থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগ এনে সম্প্রতি দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোহরা সুলতানা যূথীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আসাদুল নামে এক ব্যক্তি।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নূর নবী বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। চাকরির পাশাপাশি মেয়ের নামে ‘তাসফিয়া এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন ঠিকাদারকে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী কিনতে বাধ্য করা হতো।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে সরকারি কাজের বিপরীতে কমিশন গ্রহণ করতেন নূর নবী। এতে স্থানীয় লিটন মেম্বারের কাছ থেকে বালু সরবরাহের কমিশন এবং রুবেল মিস্ত্রি ও কালাম মিস্ত্রির কাছ থেকে সরকারি নির্মাণকাজের কমিশন নেওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এভাবে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

এছাড়া উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ তথ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে সরবরাহ করার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগে তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

লিখিত অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নূর নবী বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। নিজের, স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনের নামে ফ্ল্যাট ও জমি কেনার পাশাপাশি উপজেলার গড়াসিন ও নাল্লাপাড়া এলাকায় স্ত্রীর নামে জমি কিনে দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আটিয়া ইউনিয়নের এক ভূমি সহকারী কর্মকর্তার সহযোগিতা পাওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, নূর নবীর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। তবে প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা নূর নবী। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। আমি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই।”

এ বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।