১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

ফায়ার সার্ভিসের নিয়োগে কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৪৭:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৪

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের নিয়োগ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য এবং কোটি টাকা লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অধিদপ্তরের ভেতরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় থেকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করে আসছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শহীদ আতাহার হোসেনের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। নিয়োগ কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকায় তিনি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নিয়োগ-সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত কয়েকজন ফায়ারফাইটার ও ড্রাইভারও এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সিরাজগঞ্জের পাওয়া প্লান্ট ফায়ার স্টেশনের ড্রাইভার শিহাব উদ্দিনের মৃত্যুর পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিয়োগসংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন তিনি। এ বিষয়ে আলম নামে এক ভুক্তভোগী দাবি করেন, শিহাব উদ্দিনের মৃত্যুর পেছনে নিয়োগ-সংক্রান্ত অর্থ লেনদেনের ঘটনাই অন্যতম কারণ।

এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিহাব উদ্দিনের মৃত্যুসহ নিয়োগ-সংক্রান্ত সব অভিযোগ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়োগ সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে সিরাজগঞ্জের পাওয়া প্লান্ট ফায়ার স্টেশনের ড্রাইভার শিহাব উদ্দিনও যুক্ত ছিলেন। জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল ফায়ার স্টেশনের ড্রাইভার মাহমুদুল হাসানের মাধ্যমে পরিচালক শহীদ আতাহার হোসেন শিহাব উদ্দিনের কাছ থেকে ৮৫ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা নেওয়ার পরও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে গত শনিবার দুপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন শিহাব উদ্দিন।

শিহাব উদ্দিনের স্ত্রী লাবনী আক্তার দৈনিক জনবাণীকে বলেন, মাহমুদুল হাসানের মাধ্যমে পরিচালক শহীদ আতাহার হোসেনকে ৮৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ফায়ারফাইটার নিয়োগ না হওয়ায় তার স্বামী মানসিক চাপে আত্মহত্যা করেন। তিনি আরও বলেন, “আমি এখন সংসার নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় আছি। তবে আমার এই বক্তব্য প্রকাশ করবেন না। তাহলে আমার স্বামীর পেনশন নিয়ে সমস্যা হতে পারে। সব টাকা পরিচালক স্যার খেয়েছে, এখন এসব লেখা হলে পেনশনও আটকে যেতে পারে।”

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেও শহীদ আতাহার হোসেন প্রকল্প পরিচালক ছিলেন। পরবর্তীতে পরিচালক পদে দায়িত্ব নিতে প্রথমদিকে জটিলতা থাকলেও পরে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে ওই পদে বসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই অর্থ তুলে আনতেই তিনি নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন এবং প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি করেছেন একাধিক কর্মকর্তা। যদিও এসব অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় প্রভাবিত করতে বিভিন্ন জেলার প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত এই সিন্ডিকেট। চাকরির নিশ্চয়তা দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের পর অনেক ক্ষেত্রেই সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি।

এ বিষয়ে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল ফায়ার স্টেশনের ড্রাইভার মাহমুদুল হাসান অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “বড় স্যার টাকা নিয়েছেন, এটা সত্যি। কিন্তু এটা বলা ঠিক হবে না। শিহাবের জীবন শেষ, আমি চাকরি হারাব।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শহীদ আতাহার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়া তার দপ্তরে দুই দিন অপেক্ষা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একইভাবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামালের সঙ্গে মোবাইল ফোন ও খুদে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি

সর্বাধিক পঠিত

আড়াই বছর ভারতীয় কারাগারে থাকার পর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন ৫ বাংলাদেশি নারী

ফায়ার সার্ভিসের নিয়োগে কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট: ১২:৪৭:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের নিয়োগ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য এবং কোটি টাকা লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অধিদপ্তরের ভেতরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় থেকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করে আসছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শহীদ আতাহার হোসেনের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। নিয়োগ কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকায় তিনি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নিয়োগ-সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত কয়েকজন ফায়ারফাইটার ও ড্রাইভারও এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সিরাজগঞ্জের পাওয়া প্লান্ট ফায়ার স্টেশনের ড্রাইভার শিহাব উদ্দিনের মৃত্যুর পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিয়োগসংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন তিনি। এ বিষয়ে আলম নামে এক ভুক্তভোগী দাবি করেন, শিহাব উদ্দিনের মৃত্যুর পেছনে নিয়োগ-সংক্রান্ত অর্থ লেনদেনের ঘটনাই অন্যতম কারণ।

এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিহাব উদ্দিনের মৃত্যুসহ নিয়োগ-সংক্রান্ত সব অভিযোগ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়োগ সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে সিরাজগঞ্জের পাওয়া প্লান্ট ফায়ার স্টেশনের ড্রাইভার শিহাব উদ্দিনও যুক্ত ছিলেন। জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল ফায়ার স্টেশনের ড্রাইভার মাহমুদুল হাসানের মাধ্যমে পরিচালক শহীদ আতাহার হোসেন শিহাব উদ্দিনের কাছ থেকে ৮৫ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা নেওয়ার পরও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে গত শনিবার দুপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন শিহাব উদ্দিন।

শিহাব উদ্দিনের স্ত্রী লাবনী আক্তার দৈনিক জনবাণীকে বলেন, মাহমুদুল হাসানের মাধ্যমে পরিচালক শহীদ আতাহার হোসেনকে ৮৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ফায়ারফাইটার নিয়োগ না হওয়ায় তার স্বামী মানসিক চাপে আত্মহত্যা করেন। তিনি আরও বলেন, “আমি এখন সংসার নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় আছি। তবে আমার এই বক্তব্য প্রকাশ করবেন না। তাহলে আমার স্বামীর পেনশন নিয়ে সমস্যা হতে পারে। সব টাকা পরিচালক স্যার খেয়েছে, এখন এসব লেখা হলে পেনশনও আটকে যেতে পারে।”

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেও শহীদ আতাহার হোসেন প্রকল্প পরিচালক ছিলেন। পরবর্তীতে পরিচালক পদে দায়িত্ব নিতে প্রথমদিকে জটিলতা থাকলেও পরে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে ওই পদে বসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই অর্থ তুলে আনতেই তিনি নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন এবং প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি করেছেন একাধিক কর্মকর্তা। যদিও এসব অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় প্রভাবিত করতে বিভিন্ন জেলার প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত এই সিন্ডিকেট। চাকরির নিশ্চয়তা দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের পর অনেক ক্ষেত্রেই সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি।

এ বিষয়ে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল ফায়ার স্টেশনের ড্রাইভার মাহমুদুল হাসান অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “বড় স্যার টাকা নিয়েছেন, এটা সত্যি। কিন্তু এটা বলা ঠিক হবে না। শিহাবের জীবন শেষ, আমি চাকরি হারাব।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শহীদ আতাহার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়া তার দপ্তরে দুই দিন অপেক্ষা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একইভাবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামালের সঙ্গে মোবাইল ফোন ও খুদে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি