১০:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

আয় বাড়লেও ১ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকার লোকসানে বাংলাদেশ রেলওয়ে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:০৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ৫১০

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৮৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এ সময়ে সংস্থাটির মোট আয় হয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, বিপরীতে পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা।

রবিবার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগের অর্থবছরের তুলনায় রেলওয়ের আয় ও ব্যয়ের অনুপাত কিছুটা উন্নত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেলের আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে আয় বেড়েছে ২২১ কোটিরও বেশি।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আয় বেড়েছে যাত্রী পরিবহন খাতে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে আয় বেড়েছে ২৫৬ কোটি টাকা। তবে ইঞ্জিন সংকটের কারণে মালামাল পরিবহন খাতে আয় কমেছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

এছাড়া ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা থেকে আয় বেড়েছে ৩ কোটি টাকা এবং অপটিক্যাল ফাইবার লিজ বাবদ আয় বেড়েছে ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। অন্যদিকে পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাতে ভেন্ডিং লাইসেন্স এবং অন্যান্য উৎস থেকে মোট আয় কমেছে প্রায় ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

রেলওয়ের পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে বেতন-ভাতা, পেনশন, রেলপথ ও রোলিং স্টকের রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাতের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব ব্যয় বিবেচনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয় ও ব্যয়ের অনুপাত (অপারেটিং রেশিও) দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯১, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২ দশমিক ০৯। ফলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তবে রেলওয়ের দাবি, প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পেনশন খাতে ব্যয় হয়, যা পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করাকে তারা যৌক্তিক মনে করে না। এ ব্যয় বাদ দিলে অপারেটিং রেশিও দাঁড়ায় ১ দশমিক ৪৩। সে হিসেবে পেনশন ব্যতীতও রেলের আয়-ব্যয়ের ঘাটতি থাকে ৮৮৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন ব্যবস্থা হওয়ায় যাত্রীদের জন্য রেয়াতি ভাড়া বহাল রাখা হয়েছে। ২০১৬ সালের পর থেকে রেলভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি। এ সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, আমদানিনির্ভর যন্ত্রাংশের মূল্য, ডলারের বিনিময় হার, জ্বালানি তেলের দাম এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

রেলওয়ের মতে, প্রায় এক দশক ধরে ভাড়া অপরিবর্তিত থাকায় আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যান্য পরিবহন মাধ্যম ও বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রেলভাড়া যৌক্তিকভাবে সমন্বয় করা হলে আয়-ব্যয়ের ব্যবধান আরও কমে আসবে। তাই বাংলাদেশ রেলওয়েকে কেবল লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে ১১ বছরের শিশুকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

আয় বাড়লেও ১ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকার লোকসানে বাংলাদেশ রেলওয়ে

আপডেট: ০১:০৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৮৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এ সময়ে সংস্থাটির মোট আয় হয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, বিপরীতে পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা।

রবিবার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগের অর্থবছরের তুলনায় রেলওয়ের আয় ও ব্যয়ের অনুপাত কিছুটা উন্নত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেলের আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে আয় বেড়েছে ২২১ কোটিরও বেশি।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আয় বেড়েছে যাত্রী পরিবহন খাতে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে আয় বেড়েছে ২৫৬ কোটি টাকা। তবে ইঞ্জিন সংকটের কারণে মালামাল পরিবহন খাতে আয় কমেছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

এছাড়া ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা থেকে আয় বেড়েছে ৩ কোটি টাকা এবং অপটিক্যাল ফাইবার লিজ বাবদ আয় বেড়েছে ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। অন্যদিকে পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাতে ভেন্ডিং লাইসেন্স এবং অন্যান্য উৎস থেকে মোট আয় কমেছে প্রায় ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

রেলওয়ের পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে বেতন-ভাতা, পেনশন, রেলপথ ও রোলিং স্টকের রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাতের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব ব্যয় বিবেচনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয় ও ব্যয়ের অনুপাত (অপারেটিং রেশিও) দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯১, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২ দশমিক ০৯। ফলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তবে রেলওয়ের দাবি, প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পেনশন খাতে ব্যয় হয়, যা পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করাকে তারা যৌক্তিক মনে করে না। এ ব্যয় বাদ দিলে অপারেটিং রেশিও দাঁড়ায় ১ দশমিক ৪৩। সে হিসেবে পেনশন ব্যতীতও রেলের আয়-ব্যয়ের ঘাটতি থাকে ৮৮৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন ব্যবস্থা হওয়ায় যাত্রীদের জন্য রেয়াতি ভাড়া বহাল রাখা হয়েছে। ২০১৬ সালের পর থেকে রেলভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি। এ সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, আমদানিনির্ভর যন্ত্রাংশের মূল্য, ডলারের বিনিময় হার, জ্বালানি তেলের দাম এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

রেলওয়ের মতে, প্রায় এক দশক ধরে ভাড়া অপরিবর্তিত থাকায় আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যান্য পরিবহন মাধ্যম ও বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রেলভাড়া যৌক্তিকভাবে সমন্বয় করা হলে আয়-ব্যয়ের ব্যবধান আরও কমে আসবে। তাই বাংলাদেশ রেলওয়েকে কেবল লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।