০৭:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সুন্দরবনে আরও ২৭ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:৩৭:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫১২

সুন্দরবনের কুখ্যাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় বনদস্যু অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণকারীদের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। একই সঙ্গে যারা এখনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

কোস্টগার্ডের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত সোমবার বিকেল ৫টায় বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের চরপুটিয়া খাল সংলগ্ন এলাকায় ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় বনদস্যু আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণের সময় তারা কোস্টগার্ডের কাছে ৩টি বিদেশি বন্দুক, ১টি এইট শুটার, ১টি ফোর শুটার, ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫টি দেশীয় পাইপগান, ২টি চায়না পাইপগান, ৩৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জমা দেন। জব্দকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের পুনর্বাসন ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মেজবাউল আলম বলেন, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে। বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় পরিচালিত ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং ৪৫ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কোস্টগার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সুন্দরবনের সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো এখন ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এর আগে কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনীর ৭ সদস্য এবং বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সদস্য অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছিলেন। সর্বশেষ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ২৭ সদস্যের আত্মসমর্পণ সুন্দরবনে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন সুন্দরবনের সক্রিয় সব বনদস্যুর প্রতি অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আত্মসমর্পণকারীদের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে যারা অপরাধের পথেই থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

সর্বাধিক পঠিত

ভোলায় সমাজসেবা প্রশিক্ষণে অনিয়মের অভিযোগ, স্বজনপ্রীতি-ঘুষ বাণিজ্যে তোলপাড়

সুন্দরবনে আরও ২৭ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ,

আপডেট: ০৬:৩৭:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সুন্দরবনের কুখ্যাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় বনদস্যু অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণকারীদের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। একই সঙ্গে যারা এখনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

কোস্টগার্ডের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত সোমবার বিকেল ৫টায় বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের চরপুটিয়া খাল সংলগ্ন এলাকায় ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় বনদস্যু আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণের সময় তারা কোস্টগার্ডের কাছে ৩টি বিদেশি বন্দুক, ১টি এইট শুটার, ১টি ফোর শুটার, ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫টি দেশীয় পাইপগান, ২টি চায়না পাইপগান, ৩৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জমা দেন। জব্দকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের পুনর্বাসন ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মেজবাউল আলম বলেন, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে। বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় পরিচালিত ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং ৪৫ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কোস্টগার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সুন্দরবনের সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো এখন ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এর আগে কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনীর ৭ সদস্য এবং বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সদস্য অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছিলেন। সর্বশেষ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ২৭ সদস্যের আত্মসমর্পণ সুন্দরবনে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন সুন্দরবনের সক্রিয় সব বনদস্যুর প্রতি অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আত্মসমর্পণকারীদের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে যারা অপরাধের পথেই থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।