গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় ঘরে তালাবন্দি করে স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে মাথার চুল কেটে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক স্বামীর বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার দুই শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনাটি উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের গয়লাকান্দি গ্রামে। আটক নাজমুল ওই গ্রামের নওয়াব আলী শেখের ছেলে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ সোনিয়া (২৫) মুন্সীগঞ্জের চরমুসুরিয়া এলাকার লোকমান সরকারের মেয়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নাজমুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে মাদকের টাকার দাবিকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নাজমুল ঘরে তালা দিয়ে সোনিয়ার হাত-পা বেঁধে মাথার চুল কেটে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, এরপর তাদের দুই শিশু সন্তান—আবু রায়হান (৮) ও আবু মুছা (৪)-এর সামনেই সোনিয়াকে রাতভর শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে গৃহবধূর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের তালা ভেঙে সোনিয়া ও তার দুই সন্তানকে উদ্ধার করে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত নাজমুলকে আটক করে মুকসুদপুর থানায় পাঠানো হয়। আহত সোনিয়াকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সোনিয়া অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী নিয়মিত মাদক সেবন করে বাড়িতে এসে সামান্য বিষয় নিয়ে মারধর করতেন। সোমবার রাতে দুই শিশুসন্তানের সামনেই তার হাত-পা বেঁধে চুল কেটে রাতভর নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
অন্যদিকে আটক নাজমুল পুলিশের কাছে দাবি করেন, স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি তার হাত-পা বেঁধে চুল কেটে দিয়েছিলেন, যাতে তিনি বাড়ি ছেড়ে যেতে না পারেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মাতুব্বর বলেন, নাজমুল একজন মাদকসেবী এবং তিনি প্রায়ই মাদকাসক্ত অবস্থায় স্ত্রীকে মারধর করতেন।
সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোন্দকার আরঙ্গজেব জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ভুক্তভোগী নারী ও তার দুই শিশুসন্তানকে উদ্ধার করেছে। অভিযুক্তকে আটক করে মুকসুদপুর থানায় পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী মামলা করলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















