০৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

দুর্যোগের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা, মঙ্গলবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:১১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৮

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া এবং ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘শিক্ষার্থী ঐক্য’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

ঘোষণা অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়, শাহবাগ, উত্তরা ও মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। একই সঙ্গে রাজশাহী, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এবং সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, রংপুর জিলা স্কুলসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে সোমবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু পরীক্ষার্থী চরম ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করে এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে তারা দায়িত্বজ্ঞানহীন, অমানবিক এবং শিক্ষাবান্ধব নীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষার আগে বিভিন্ন মহল, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠন যৌক্তিকভাবে পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছিল। এমনকি কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডও পরীক্ষা স্থগিতের সুপারিশ করেছিল বলে দাবি করা হয়। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয়নি। ফলে বহু পরীক্ষার্থী দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন এবং অসংখ্য শিক্ষার্থী দুর্ভোগ পোহিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, এই পরিস্থিতির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এড়াতে পারেন না। শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তার চেয়ে পরীক্ষার সময়সূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। তাই ঘটনার পূর্ণ দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

তবে এসব বিজ্ঞপ্তি ও কর্মসূচির ঘোষণায় কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষার্থী বা সংগঠকের নাম উল্লেখ করা হয়নি। ‘শিক্ষার্থী ঐক্য’ কিংবা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং শিক্ষা সচিব আবদুল খালেকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে। কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রামসহ বন্যাকবলিত পাঁচ জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থগিত থাকবে। তবে দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি থাকলেও সব জেলার পরীক্ষা একযোগে স্থগিত করা বাস্তবসম্মত নয়। চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। বারবার পরীক্ষা স্থগিত হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন, ফল প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রমসহ পুরো শিক্ষা ক্যালেন্ডার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থার কারণে একটি বোর্ডের সমস্যার জন্য দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখাও সম্ভব নয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের ঘোষিত কর্মসূচিকে ঘিরে মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

সর্বাধিক পঠিত

ঘরে তালাবন্দি করে স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে চুল কেটে রাতভর নির্যাতন

দুর্যোগের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা, মঙ্গলবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ

আপডেট: ০৪:১১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া এবং ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘শিক্ষার্থী ঐক্য’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

ঘোষণা অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়, শাহবাগ, উত্তরা ও মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। একই সঙ্গে রাজশাহী, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এবং সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, রংপুর জিলা স্কুলসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে সোমবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু পরীক্ষার্থী চরম ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করে এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে তারা দায়িত্বজ্ঞানহীন, অমানবিক এবং শিক্ষাবান্ধব নীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষার আগে বিভিন্ন মহল, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠন যৌক্তিকভাবে পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছিল। এমনকি কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডও পরীক্ষা স্থগিতের সুপারিশ করেছিল বলে দাবি করা হয়। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয়নি। ফলে বহু পরীক্ষার্থী দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন এবং অসংখ্য শিক্ষার্থী দুর্ভোগ পোহিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, এই পরিস্থিতির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এড়াতে পারেন না। শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তার চেয়ে পরীক্ষার সময়সূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। তাই ঘটনার পূর্ণ দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

তবে এসব বিজ্ঞপ্তি ও কর্মসূচির ঘোষণায় কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষার্থী বা সংগঠকের নাম উল্লেখ করা হয়নি। ‘শিক্ষার্থী ঐক্য’ কিংবা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং শিক্ষা সচিব আবদুল খালেকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে। কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রামসহ বন্যাকবলিত পাঁচ জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থগিত থাকবে। তবে দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি থাকলেও সব জেলার পরীক্ষা একযোগে স্থগিত করা বাস্তবসম্মত নয়। চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। বারবার পরীক্ষা স্থগিত হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন, ফল প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রমসহ পুরো শিক্ষা ক্যালেন্ডার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থার কারণে একটি বোর্ডের সমস্যার জন্য দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখাও সম্ভব নয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের ঘোষিত কর্মসূচিকে ঘিরে মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।