১১:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

এনসিটিবিতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ৫১০

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বিশাল অংকের অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২ হাজার ৭১১ কোটি ২০ লাখ টাকার অনিয়ম ও অনিয়মিত ব্যয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা-সম্মানি এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে। প্রধান অনিয়মগুলোর মধ্যে রয়েছে:
প্রাপ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন উৎসাহ ভাতা ও অতিরিক্ত সম্মানি বাবদ মোট ২ কোটি ৬২ লাখ ৯১ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া প্রেস মনিটরিংয়ের জন্য এজেন্ট থাকার পরেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতিরিক্ত বিল বাবদ ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
রয়্যালটি বিল থেকে নির্ধারিত হারে ভ্যাট ও আয়কর আদায় না করায় সরকারের ২২ কোটি ৬ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।
উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি এড়িয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৮৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার অনিয়ম হয়েছে। এছাড়া একক দরদাতা থাকা সত্ত্বেও দরপত্র বাতিল না করে উচ্চমূল্যে কার্যাদেশ দিয়ে সরকারের প্রায় ৬১ কোটি ৮ লাখ টাকা ক্ষতি করা হয়েছে। একইভাবে, যোগ্য দরদাতাকে বাদ দিয়ে উচ্চমূল্যের দরদাতাকে কার্যাদেশ দিয়ে সরকারের আরও ৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।
২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহের জন্য ১ হাজার ৭৮৫ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হলেও এর কোনো মান যাচাইয়ের রিপোর্ট (বিএসটিআই বা বিসিএসআইআর) নেই। ফলে পুরো ব্যয়টিই অনিয়মিত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
চাহিদার অতিরিক্ত বই মুদ্রণ ও সরবরাহের কার্যাদেশ দেওয়ায় সরকারি কোষাগারের আরও ৫১৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে এনসিটিবির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম দাবি করেছেন, ২০১০ সাল থেকে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমেই এসব সম্মানি দেওয়া হচ্ছে এবং এতে কোনো অনিয়ম নেই। তবে বর্তমান সদস্য আজীজ হায়দার ভূইয়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এনসিটিবিতে ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চরম অভাব রয়েছে।” তিনি সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে আর্থিক দুর্নীতি রোধে কার্যকর তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।
এ বিশাল অংকের অনিয়ম ও আর্থিক ক্ষতির ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা এখন দেখার বিষয়।

সর্বাধিক পঠিত

এনসিটিবিতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম

এনসিটিবিতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম

আপডেট: ১১:০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বিশাল অংকের অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২ হাজার ৭১১ কোটি ২০ লাখ টাকার অনিয়ম ও অনিয়মিত ব্যয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা-সম্মানি এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে। প্রধান অনিয়মগুলোর মধ্যে রয়েছে:
প্রাপ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন উৎসাহ ভাতা ও অতিরিক্ত সম্মানি বাবদ মোট ২ কোটি ৬২ লাখ ৯১ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া প্রেস মনিটরিংয়ের জন্য এজেন্ট থাকার পরেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতিরিক্ত বিল বাবদ ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
রয়্যালটি বিল থেকে নির্ধারিত হারে ভ্যাট ও আয়কর আদায় না করায় সরকারের ২২ কোটি ৬ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।
উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি এড়িয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৮৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার অনিয়ম হয়েছে। এছাড়া একক দরদাতা থাকা সত্ত্বেও দরপত্র বাতিল না করে উচ্চমূল্যে কার্যাদেশ দিয়ে সরকারের প্রায় ৬১ কোটি ৮ লাখ টাকা ক্ষতি করা হয়েছে। একইভাবে, যোগ্য দরদাতাকে বাদ দিয়ে উচ্চমূল্যের দরদাতাকে কার্যাদেশ দিয়ে সরকারের আরও ৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।
২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহের জন্য ১ হাজার ৭৮৫ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হলেও এর কোনো মান যাচাইয়ের রিপোর্ট (বিএসটিআই বা বিসিএসআইআর) নেই। ফলে পুরো ব্যয়টিই অনিয়মিত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
চাহিদার অতিরিক্ত বই মুদ্রণ ও সরবরাহের কার্যাদেশ দেওয়ায় সরকারি কোষাগারের আরও ৫১৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে এনসিটিবির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম দাবি করেছেন, ২০১০ সাল থেকে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমেই এসব সম্মানি দেওয়া হচ্ছে এবং এতে কোনো অনিয়ম নেই। তবে বর্তমান সদস্য আজীজ হায়দার ভূইয়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এনসিটিবিতে ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চরম অভাব রয়েছে।” তিনি সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে আর্থিক দুর্নীতি রোধে কার্যকর তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।
এ বিশাল অংকের অনিয়ম ও আর্থিক ক্ষতির ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা এখন দেখার বিষয়।