১২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ৫০০

এখানে আপনার প্রদান করা তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রতিবেদনটি নতুন শিরোনামসহ পুনর্লিখন করা হলো:
## এনসিটিবিতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম: নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ভয়াবহ চিত্র
**নিজস্ব প্রতিবেদক:**
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বিশাল অংকের অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২ হাজার ৭১১ কোটি ২০ লাখ টাকার অনিয়ম ও অনিয়মিত ব্যয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
**অনিয়মের খাতসমূহ ও আর্থিক ক্ষতির বিবরণ:**
নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা-সম্মানি এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে। প্রধান অনিয়মগুলোর মধ্যে রয়েছে:
* **ভাতা ও সম্মানি বাবদ অপচয়:** প্রাপ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন উৎসাহ ভাতা ও অতিরিক্ত সম্মানি বাবদ মোট ২ কোটি ৬২ লাখ ৯১ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া প্রেস মনিটরিংয়ের জন্য এজেন্ট থাকার পরেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতিরিক্ত বিল বাবদ ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
* **রাজস্ব ক্ষতি:** রয়্যালটি বিল থেকে নির্ধারিত হারে ভ্যাট ও আয়কর আদায় না করায় সরকারের ২২ কোটি ৬ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।
* **দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারসাজি:** উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি এড়িয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৮৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার অনিয়ম হয়েছে। এছাড়া একক দরদাতা থাকা সত্ত্বেও দরপত্র বাতিল না করে উচ্চমূল্যে কার্যাদেশ দিয়ে সরকারের প্রায় ৬১ কোটি ৮ লাখ টাকা ক্ষতি করা হয়েছে। একইভাবে, যোগ্য দরদাতাকে বাদ দিয়ে উচ্চমূল্যের দরদাতাকে কার্যাদেশ দিয়ে সরকারের আরও ৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।
* **মান যাচাইবিহীন ব্যয়:** ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহের জন্য ১ হাজার ৭৮৫ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হলেও এর কোনো মান যাচাইয়ের রিপোর্ট (বিএসটিআই বা বিসিএসআইআর) নেই। ফলে পুরো ব্যয়টিই অনিয়মিত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
* **অতিরিক্ত মুদ্রণ:** চাহিদার অতিরিক্ত বই মুদ্রণ ও সরবরাহের কার্যাদেশ দেওয়ায় সরকারি কোষাগারের আরও ৫১৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
**সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:**
অভিযোগের বিষয়ে এনসিটিবির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম দাবি করেছেন, ২০১০ সাল থেকে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমেই এসব সম্মানি দেওয়া হচ্ছে এবং এতে কোনো অনিয়ম নেই। তবে বর্তমান সদস্য আজীজ হায়দার ভূইয়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
**বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া:**
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এনসিটিবিতে ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চরম অভাব রয়েছে।” তিনি সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে আর্থিক দুর্নীতি রোধে কার্যকর তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।
এ বিশাল অংকের অনিয়ম ও আর্থিক ক্ষতির ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা এখন দেখার বিষয়।

সর্বাধিক পঠিত

এনসিটিবিতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম

আপডেট: ১১:০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

এখানে আপনার প্রদান করা তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রতিবেদনটি নতুন শিরোনামসহ পুনর্লিখন করা হলো:
## এনসিটিবিতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম: নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ভয়াবহ চিত্র
**নিজস্ব প্রতিবেদক:**
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বিশাল অংকের অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২ হাজার ৭১১ কোটি ২০ লাখ টাকার অনিয়ম ও অনিয়মিত ব্যয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
**অনিয়মের খাতসমূহ ও আর্থিক ক্ষতির বিবরণ:**
নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা-সম্মানি এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে। প্রধান অনিয়মগুলোর মধ্যে রয়েছে:
* **ভাতা ও সম্মানি বাবদ অপচয়:** প্রাপ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন উৎসাহ ভাতা ও অতিরিক্ত সম্মানি বাবদ মোট ২ কোটি ৬২ লাখ ৯১ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া প্রেস মনিটরিংয়ের জন্য এজেন্ট থাকার পরেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতিরিক্ত বিল বাবদ ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
* **রাজস্ব ক্ষতি:** রয়্যালটি বিল থেকে নির্ধারিত হারে ভ্যাট ও আয়কর আদায় না করায় সরকারের ২২ কোটি ৬ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।
* **দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারসাজি:** উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি এড়িয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৮৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার অনিয়ম হয়েছে। এছাড়া একক দরদাতা থাকা সত্ত্বেও দরপত্র বাতিল না করে উচ্চমূল্যে কার্যাদেশ দিয়ে সরকারের প্রায় ৬১ কোটি ৮ লাখ টাকা ক্ষতি করা হয়েছে। একইভাবে, যোগ্য দরদাতাকে বাদ দিয়ে উচ্চমূল্যের দরদাতাকে কার্যাদেশ দিয়ে সরকারের আরও ৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।
* **মান যাচাইবিহীন ব্যয়:** ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহের জন্য ১ হাজার ৭৮৫ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হলেও এর কোনো মান যাচাইয়ের রিপোর্ট (বিএসটিআই বা বিসিএসআইআর) নেই। ফলে পুরো ব্যয়টিই অনিয়মিত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
* **অতিরিক্ত মুদ্রণ:** চাহিদার অতিরিক্ত বই মুদ্রণ ও সরবরাহের কার্যাদেশ দেওয়ায় সরকারি কোষাগারের আরও ৫১৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
**সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:**
অভিযোগের বিষয়ে এনসিটিবির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম দাবি করেছেন, ২০১০ সাল থেকে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমেই এসব সম্মানি দেওয়া হচ্ছে এবং এতে কোনো অনিয়ম নেই। তবে বর্তমান সদস্য আজীজ হায়দার ভূইয়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
**বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া:**
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এনসিটিবিতে ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চরম অভাব রয়েছে।” তিনি সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে আর্থিক দুর্নীতি রোধে কার্যকর তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।
এ বিশাল অংকের অনিয়ম ও আর্থিক ক্ষতির ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা এখন দেখার বিষয়।