যশোরের সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজে গভীর রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে চন্দন নামে এক বহিরাগত যুবককে গণপিটুনি দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত কলেজ ক্যাম্পাস, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল চত্বর এবং শহরের দড়াটানা এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমএম কলেজ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে আসা চন্দন নামের ওই যুবক কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি আবার এলাকায় সক্রিয় হন। শনিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে মোটরসাইকেলে অপর এক সহযোগীকে নিয়ে কলেজের আসাদ হলের সামনে আসেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের দাবি, এত রাতে ক্যাম্পাসে প্রবেশের কারণ জানতে চাইলে চন্দন ক্ষিপ্ত হয়ে চাকু বের করেন এবং শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের আমলে এমএম কলেজ যেভাবে চলত, এখনও সেভাবেই চলবে। নতুন করে এই কলেজে কারও আধিপত্য চলবে না।” এ ঘটনায় মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর রাত ১২টার দিকে আসাদ হলের সামনে থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে হাসপাতাল চত্বর পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বর, দড়াটানা ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান করতে দেখা যায়। এ সময় তারা দফায় দফায় প্রতিবাদ মিছিল করে অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
প্রতিবাদ মিছিলে এমএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বিল্টু, সহ-সভাপতি সরোয়ার হোসেন, ছাত্রশিবিরের নেতা লিখন ও ইব্রাহিম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সোইয়াবে আক্তারসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
এমএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বিল্টু বলেন, “রেলগেট এলাকার চন্দন অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সে সময় তিনি একটি টর্চার সেলের নেতৃত্ব দিতেন। ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে চলা চন্দন ও তার সহযোগীদের অত্যাচারে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন অতিষ্ঠ ছিল। সম্প্রতি তারা আবারও ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে বহিরাগতদের এনে হামলার চেষ্টা করা হয়। তবে শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই চেষ্টা প্রতিহত করেছে।”
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চন্দন অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান বলেন, “অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”
তবে শিক্ষার্থীদের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চন্দন। তিনি দাবি করেন, মোটরসাইকেলের পেছনে বসা একজনের হাতে সিগারেট ছিল। সেটি নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী হকি স্টিক ও লাঠিসোটা নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি কখনোই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















