চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাঈম ইরা হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শিশুটিকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস আলেয়া এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি বাবু শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু জানান, হত্যার দায়ে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় বাবু শেখকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত-২০০৩) এর ৭ ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং একই আইনের ৯(৪)(খ) ধারায় ধর্ষণের চেষ্টার অপরাধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনার পরপরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
রায় ঘোষণার পর নিহত ইরার মা ও মামলার বাদী রোকেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়েকে আর কোনোদিন ফিরে পাব না। তবে যারা আমার মেয়ের সঙ্গে এমন নিষ্ঠুরতা করবে, তাদেরও যেন একই পরিণতি হয়। আদালত যে বিচার করেছেন, তাতে আমি সন্তুষ্ট। আল্লাহর কাছে শুধু দোয়া করি, আর কোনো মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয়।”
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাঈম ইরা মনিকে চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় বাবু শেখ। পরে সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন-সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। ইরা বিষয়টি প্রকাশ করে দেওয়ার কথা বললে অভিযুক্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর ইরার মা রোকেয়া বেগম সীতাকুণ্ড থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত ১৫ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ১৮ জুন আদালত অপহরণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যা ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। গত ২ জুলাই উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করেন।
এই রায়ের মাধ্যমে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ শেষ হলো। তবে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে উচ্চ আদালতে রায় অনুমোদন এবং আপিলের সুযোগ রয়েছে।




















