যশোরে চলন্ত ইজিবাইকের চালকের অনলাইন জুয়া খেলার ঘটনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শেষ না হতেই এবার চিকিৎসাধীন দুই রোগীকেও হাসপাতালে শুয়ে অনলাইন ক্যাসিনো ও স্লট গেম খেলতে দেখা গেছে। হাতে স্যালাইনের ক্যানোলা লাগানো থাকলেও মোবাইল ফোনে জুয়ার নেশায় মগ্ন ছিলেন তারা। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ১০টার দিকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ৪র্থ তলার বারান্দায় শুয়ে থাকা দুই যুবককে এ অবস্থায় দেখা যায়। রাতদিন নিউজের ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, এক হাতে স্যালাইনের ক্যানোলা লাগানো রয়েছে, আর অন্য হাতে মোবাইল ফোন নিয়ে তারা অনলাইন ক্যাসিনো ও স্লট গেম খেলছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাদের একজন ডায়রিয়াজনিত সমস্যায় বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার পাশে ছিলেন মা ও বোন। ডান হাতে স্যালাইন চললেও বাম হাতে মোবাইল ফোন নিয়ে তিনি অনলাইন ক্যাসিনো খেলায় ব্যস্ত ছিলেন। কখনও জিতছেন, কখনও হারছেন—এভাবেই চলছিল তার খেলা। পরিবারের সদস্যদের সামনেই এ কর্মকাণ্ড চললেও তারা বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিতে চাননি। তাদের দাবি, ছেলে প্রথমবারের মতো এমন খেলা খেলছেন।
অপর যুবক গত বুধবার বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তার হাতেও স্যালাইনের ক্যানোলা ছিল। কিন্তু চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি মোবাইল ফোনে ক্যাসিনো স্লট গেম খেলছিলেন। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি নিজেই অনলাইন জুয়া খেলার কথা স্বীকার করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার যশোর শহরে এক ইজিবাইক চালককে চলন্ত অবস্থায় এক হাতে গাড়ি চালাতে এবং অন্য হাতে মোবাইলে অনলাইন জুয়া খেলতে দেখা যায়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই হাসপাতালের রোগীদের মধ্যেও একই ধরনের আসক্তির চিত্র সামনে আসায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন জুয়ার আসক্তি এখন কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন, পারিবারিক সম্পর্ক এবং শারীরিক সুস্থতার ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও যারা জুয়ার নেশা থেকে বের হতে পারছেন না, তারা নিজেদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কার্যকর নজরদারি, আইনের প্রয়োগ এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। অন্যথায় এই ভয়াবহ আসক্তি ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক সংকটে পরিণত হতে পারে।




















