০৮:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

চৌগাছা কাঁচাবাজারে মডেল মসজিদ ঘিরে রক্তপাতের আশঙ্কা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৩৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • ৫০১

চৌগাছা প্রতিনিধি:

যশোরের চৌগাছা পাইকারি কাঁচাবাজারে প্রস্তাবিত মডেল মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী, কৃষক ও প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্ধারিত স্থানে মসজিদ নির্মাণ করা হলে শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়বে এবং হাজারো মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ পরিস্থিতিতে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত সমাধান না হলে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, চৌগাছা পাইকারি কাঁচাবাজারের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ওই এলাকায় বর্তমানে প্রায় ১৭২টি কাঁচামালের আড়ৎ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার পরিবারের জীবিকা জড়িত।

সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে জায়গা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা মডেল মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতা করছেন না। তবে বাজারের মাঝখানে নয়, পাশের কোনো খালি বা পরিত্যক্ত স্থানে মসজিদ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এতে একদিকে যেমন মসজিদ নির্মাণ সম্ভব হবে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের জীবিকাও রক্ষা পাবে।

চৌগাছা কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন বলেন, “এই জায়গায় ১৭২টি আড়ৎ রয়েছে। বাজারকে কেন্দ্র করে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। আমরা চাই চৌগাছায় মডেল মসজিদ হোক। তবে পাশেই বিকল্প ও পরিত্যক্ত জায়গা রয়েছে। সেখানে মসজিদ নির্মাণ করা হলে হাজারো পরিবার ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, নির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করে বাজার থেকে কিছুটা দূরে নদীর ওপারের জায়গায় মসজিদ নির্মাণ করা হোক। কাঁচামালের হাট ক্ষতিগ্রস্ত করে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ আমরা মেনে নিতে পারব না।”

ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান বলেন, “আমরা মসজিদ নির্মাণের বিরোধী নই। এর আগেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে স্থান পরিবর্তনের আবেদন করেছি এবং বিকল্প জায়গার প্রস্তাব দিয়েছি। সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে বা কারও জীবিকা বিপন্ন করে মসজিদ নির্মাণ ইসলাম সমর্থন করে কি না, সেটিও বিবেচনা করা উচিত।”

তিনি জানান, হাটকেন্দ্রিক মানুষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।

এদিকে প্রশাসনের নোটিশের পর বাজার এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। স্থান পরিবর্তনের দাবিতে ব্যবসায়ীরা অনড় অবস্থানে রয়েছেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, “ব্যবসায়ীদের সরে যাওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা এখনও স্থান ত্যাগ করেননি। তাদের পুনর্বাসনের জন্য নয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করছে। আশা করছি, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না।”

সর্বাধিক পঠিত

চৌগাছা কাঁচাবাজারে মডেল মসজিদ ঘিরে রক্তপাতের আশঙ্কা

চৌগাছা কাঁচাবাজারে মডেল মসজিদ ঘিরে রক্তপাতের আশঙ্কা

আপডেট: ০৮:৩৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

চৌগাছা প্রতিনিধি:

যশোরের চৌগাছা পাইকারি কাঁচাবাজারে প্রস্তাবিত মডেল মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী, কৃষক ও প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্ধারিত স্থানে মসজিদ নির্মাণ করা হলে শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়বে এবং হাজারো মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ পরিস্থিতিতে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত সমাধান না হলে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, চৌগাছা পাইকারি কাঁচাবাজারের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ওই এলাকায় বর্তমানে প্রায় ১৭২টি কাঁচামালের আড়ৎ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার পরিবারের জীবিকা জড়িত।

সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে জায়গা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা মডেল মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতা করছেন না। তবে বাজারের মাঝখানে নয়, পাশের কোনো খালি বা পরিত্যক্ত স্থানে মসজিদ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এতে একদিকে যেমন মসজিদ নির্মাণ সম্ভব হবে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের জীবিকাও রক্ষা পাবে।

চৌগাছা কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন বলেন, “এই জায়গায় ১৭২টি আড়ৎ রয়েছে। বাজারকে কেন্দ্র করে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। আমরা চাই চৌগাছায় মডেল মসজিদ হোক। তবে পাশেই বিকল্প ও পরিত্যক্ত জায়গা রয়েছে। সেখানে মসজিদ নির্মাণ করা হলে হাজারো পরিবার ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, নির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করে বাজার থেকে কিছুটা দূরে নদীর ওপারের জায়গায় মসজিদ নির্মাণ করা হোক। কাঁচামালের হাট ক্ষতিগ্রস্ত করে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ আমরা মেনে নিতে পারব না।”

ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান বলেন, “আমরা মসজিদ নির্মাণের বিরোধী নই। এর আগেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে স্থান পরিবর্তনের আবেদন করেছি এবং বিকল্প জায়গার প্রস্তাব দিয়েছি। সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে বা কারও জীবিকা বিপন্ন করে মসজিদ নির্মাণ ইসলাম সমর্থন করে কি না, সেটিও বিবেচনা করা উচিত।”

তিনি জানান, হাটকেন্দ্রিক মানুষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।

এদিকে প্রশাসনের নোটিশের পর বাজার এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। স্থান পরিবর্তনের দাবিতে ব্যবসায়ীরা অনড় অবস্থানে রয়েছেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, “ব্যবসায়ীদের সরে যাওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা এখনও স্থান ত্যাগ করেননি। তাদের পুনর্বাসনের জন্য নয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করছে। আশা করছি, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না।”