১০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

ন্যায্য মজুরির দাবিতে বেনাপোল বন্দরে শ্রমিকদের কর্মবিরতি আশ্বাসে এক মাসের জন্য স্থগিত আন্দোলন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:০৭:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • ৫১২

বেনাপোল প্রতিনিধি | আলমগীর হোসেন

ন্যায্য মজুরির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও আন্দোলনে নেমেছিলেন বেনাপোল স্থল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৮৯১ ও ৯২৫-এর শ্রমিকরা। রবিবার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেনাপোল স্থল বন্দরের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন তারা। শ্রমিকদের কর্মসূচির কারণে কিছু সময়ের জন্য বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিলেও পরে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, ২০১২ সালে বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ আমদানিকারকদের কাছ থেকে প্রতি টন পণ্য হ্যান্ডলিং বাবদ ৩৩ টাকা আদায় করলেও শ্রমিকদের দেওয়া হতো মাত্র ১৮ টাকা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর বর্তমানে হ্যান্ডলিং চার্জ বেড়ে ৭৮ টাকায় উন্নীত হলেও শ্রমিকদের মজুরি এখনো ১৮ টাকাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং পারিবারিক খরচ সামাল দিতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানান।

শ্রমিকদের দাবি, প্রতি টন পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে ম্যানুয়াল শ্রমিকদের মজুরি ৩৫ টাকা এবং অন্যান্য শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ৩০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হন বেনাপোল স্থল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন, বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক ইউনিয়ন ৮৯১-এর সভাপতি মাসুদুর রহমান রিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক লিটন, শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫-এর সভাপতি তবিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী।

পরে বন্দর কর্তৃপক্ষ, সি অ্যান্ড এফ নেতৃবৃন্দ এবং শ্রমিক নেতাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শ্রমিকদের দাবিগুলো এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়। এ সময় সংশ্লিষ্টরা বলেন, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সরকারের চলমান বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া বিবেচনায় নিয়ে এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শ্রমিকরা তাদের আন্দোলন এক মাসের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে শ্রমিক নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে এক মাস পর পুনরায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালনসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এদিকে শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে সকালে বন্দরের কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও আলোচনার মাধ্যমে সংকটের আপাত সমাধান হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে এখন নজর রয়েছে বন্দর সংশ্লিষ্ট মহলের।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মাদক ও চোরাচালানি পণ্যসহ আটক ২

ন্যায্য মজুরির দাবিতে বেনাপোল বন্দরে শ্রমিকদের কর্মবিরতি আশ্বাসে এক মাসের জন্য স্থগিত আন্দোলন

আপডেট: ১২:০৭:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

বেনাপোল প্রতিনিধি | আলমগীর হোসেন

ন্যায্য মজুরির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও আন্দোলনে নেমেছিলেন বেনাপোল স্থল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৮৯১ ও ৯২৫-এর শ্রমিকরা। রবিবার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেনাপোল স্থল বন্দরের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন তারা। শ্রমিকদের কর্মসূচির কারণে কিছু সময়ের জন্য বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিলেও পরে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, ২০১২ সালে বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ আমদানিকারকদের কাছ থেকে প্রতি টন পণ্য হ্যান্ডলিং বাবদ ৩৩ টাকা আদায় করলেও শ্রমিকদের দেওয়া হতো মাত্র ১৮ টাকা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর বর্তমানে হ্যান্ডলিং চার্জ বেড়ে ৭৮ টাকায় উন্নীত হলেও শ্রমিকদের মজুরি এখনো ১৮ টাকাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং পারিবারিক খরচ সামাল দিতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানান।

শ্রমিকদের দাবি, প্রতি টন পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে ম্যানুয়াল শ্রমিকদের মজুরি ৩৫ টাকা এবং অন্যান্য শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ৩০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হন বেনাপোল স্থল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন, বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক ইউনিয়ন ৮৯১-এর সভাপতি মাসুদুর রহমান রিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক লিটন, শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫-এর সভাপতি তবিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী।

পরে বন্দর কর্তৃপক্ষ, সি অ্যান্ড এফ নেতৃবৃন্দ এবং শ্রমিক নেতাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শ্রমিকদের দাবিগুলো এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়। এ সময় সংশ্লিষ্টরা বলেন, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সরকারের চলমান বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া বিবেচনায় নিয়ে এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শ্রমিকরা তাদের আন্দোলন এক মাসের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে শ্রমিক নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে এক মাস পর পুনরায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালনসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এদিকে শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে সকালে বন্দরের কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও আলোচনার মাধ্যমে সংকটের আপাত সমাধান হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে এখন নজর রয়েছে বন্দর সংশ্লিষ্ট মহলের।