০৮:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

চৌগাছায় কলেজছাত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক বিয়ের অভিযোগ,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:১২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • ৫০৫

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের চৌগাছা উপজেলার দুলালপুর গ্রামের এক কলেজছাত্রীর বিরুদ্ধে বিয়ের নামে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযুক্ত আনিসা খাতুন দুলালপুর গ্রামের আব্বাস আলীর মেয়ে এবং যশোর এমএম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পেটভরা গ্রামের আব্দুল মাজিদের ছেলে মেহেদী হাসানের সঙ্গে গত ২৫ মার্চ ২০২৬ সালে আনিসার বিয়ে হয়। মেহেদীর পরিবারের দাবি, বিয়ের সময় কাবিননামা বাবদ চার লাখ টাকা এবং তিন ভরি স্বর্ণালংকার দেওয়ার শর্ত চূড়ান্ত হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা, স্বর্ণালংকার, শাড়ি, প্রসাধনী ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় ১২ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করা হয়।
মেহেদীর পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের মাত্র দুই সপ্তাহ পর পরীক্ষার অজুহাতে আনিসা স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে শ্বশুরবাড়িতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান চৌগাছা থানায় এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি (এনপিএস)-এর কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১১টার দিকে চৌগাছা থানায় একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মেয়ারাজ উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন।
সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের মতে, আলোচনার এক পর্যায়ে আনিসা কাবিননামা সংক্রান্ত অর্থ ও কিছু স্বর্ণালংকারের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন। তবে তার বাবা আব্বাস আলী ও মা শাহানাজ পারভীন সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তাদের মেয়ে মেহেদীকে ইতিমধ্যে তালাক দিয়েছেন এবং তার সঙ্গে আর সংসার করবেন না।
বৈঠকে মেহেদীর বাবা আব্দুল মাজিদ, মামা আয়ুব হোসেন, নেসার উদ্দীন বিশ্বাস, আনিসার চাচা মোদাচ্ছের হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শামসুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অভিযুক্ত আনিসা এই অঞ্চলে ‘কাবিননামা বাণিজ্যে’র মূল কারিগর এবং তার একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। ইতিপূর্বেও ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল পটুয়াখালীতে রাসেল নামে এক যুবককে প্রতারণামূলক বিয়ে করে তিন লাখ টাকা কাবিন এবং তিন ভরি স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সর্বাধিক পঠিত

চৌগাছায় কলেজছাত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক বিয়ের অভিযোগ,

চৌগাছায় কলেজছাত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক বিয়ের অভিযোগ,

আপডেট: ০৮:১২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের চৌগাছা উপজেলার দুলালপুর গ্রামের এক কলেজছাত্রীর বিরুদ্ধে বিয়ের নামে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযুক্ত আনিসা খাতুন দুলালপুর গ্রামের আব্বাস আলীর মেয়ে এবং যশোর এমএম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পেটভরা গ্রামের আব্দুল মাজিদের ছেলে মেহেদী হাসানের সঙ্গে গত ২৫ মার্চ ২০২৬ সালে আনিসার বিয়ে হয়। মেহেদীর পরিবারের দাবি, বিয়ের সময় কাবিননামা বাবদ চার লাখ টাকা এবং তিন ভরি স্বর্ণালংকার দেওয়ার শর্ত চূড়ান্ত হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা, স্বর্ণালংকার, শাড়ি, প্রসাধনী ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় ১২ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করা হয়।
মেহেদীর পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের মাত্র দুই সপ্তাহ পর পরীক্ষার অজুহাতে আনিসা স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে শ্বশুরবাড়িতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান চৌগাছা থানায় এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি (এনপিএস)-এর কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১১টার দিকে চৌগাছা থানায় একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মেয়ারাজ উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন।
সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের মতে, আলোচনার এক পর্যায়ে আনিসা কাবিননামা সংক্রান্ত অর্থ ও কিছু স্বর্ণালংকারের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন। তবে তার বাবা আব্বাস আলী ও মা শাহানাজ পারভীন সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তাদের মেয়ে মেহেদীকে ইতিমধ্যে তালাক দিয়েছেন এবং তার সঙ্গে আর সংসার করবেন না।
বৈঠকে মেহেদীর বাবা আব্দুল মাজিদ, মামা আয়ুব হোসেন, নেসার উদ্দীন বিশ্বাস, আনিসার চাচা মোদাচ্ছের হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শামসুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অভিযুক্ত আনিসা এই অঞ্চলে ‘কাবিননামা বাণিজ্যে’র মূল কারিগর এবং তার একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। ইতিপূর্বেও ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল পটুয়াখালীতে রাসেল নামে এক যুবককে প্রতারণামূলক বিয়ে করে তিন লাখ টাকা কাবিন এবং তিন ভরি স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।