বেনাপোল প্রতিনিধি:
ভারতে বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে আটক হওয়ার পর দীর্ঘদিন কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ১৪ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও কিশোর। তবে দেশে ফিরে বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হওয়ায় তাদের মানবিক দুর্ভোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১০টার দিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে তাদের বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ইমিগ্রেশন ও পোর্ট থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে মানবাধিকারভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নারী, পুরুষ ও শিশুদের রাতভর বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে দেখা গেছে। দীর্ঘদিন বিদেশের কারাগার ও সেফ হোমে কাটিয়ে দেশে ফেরার পরও তাদের জন্য কোনো উপযুক্ত আবাসন বা বিশ্রামের ব্যবস্থা না থাকায় বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে ফেরা ১৪ জনের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী রয়েছেন। তারা বিভিন্ন সময়ে উন্নত জীবনের আশায় দালালদের প্ররোচনায় সীমান্ত পথে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন কারাগার ও সেফ হোমে পাঠানো হয়।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের অধিকাংশই ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসর সেন্ট্রাল কারাগারে সাজাভোগ করেন। কারাভোগ শেষে আদালতের নির্দেশে বিভিন্ন সেফ হোমে রাখা হয়। দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে বিশেষ ট্রাভেল পারমিট ইস্যুর মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোর্তজা জানান, উন্নত জীবনের আশায় তারা দালালদের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন সেফ হোমে পাঠায়। দীর্ঘদিন সেখানে থাকার পর দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভারতের ইমিগ্রেশন ব্যুরোর অধীন হরিদাসপুর আইসিপি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। পরে প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বেনাপোল পোর্ট থানায় পাঠানো হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, আইনগত কার্যক্রম শেষে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শাফিকুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং, পুনর্বাসন ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ফেরত আসা বাংলাদেশিদের বাড়ি কক্সবাজার, সুনামগঞ্জ ও যশোর জেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দীর্ঘদিন কারাভোগ শেষে দেশে ফেরা নারী, পুরুষ ও শিশুদের জন্য সীমান্ত এলাকায় আরও মানবিক ও নিরাপদ অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, যাতে তাদের আর কোনো ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে না হয়।




















