পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে রাজ্যপাল আর এন রবির কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রিসভার আরও পাঁচ সদস্যও শপথ গ্রহণ করেন।
গেরুয়া কুর্তা, ধুতি ও কপালে গেরুয়া তিলক পরে বাঙালিয়ানা আবহে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। জাঁকজমকপূর্ণ এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।
শপথ গ্রহণের পর শুভেন্দু অধিকারী কলকাতার জোড়াসাঁকোয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মভিটায় যান। রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে সেখানে কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নতুন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কবিগুরুকে শ্রদ্ধা জানিয়েই নতুন সরকারের দায়িত্ব শুরু হলো। বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতি রবীন্দ্রনাথের চেতনায় এগিয়ে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি এখন পুরো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিনে বাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা নতুনভাবে বাংলা গড়ে তুলতে চাই।”
এরপর জোড়াসাঁকো থেকে সরাসরি বিধানসভায় গিয়ে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার প্রোটেম স্পিকার হিসেবে তাপস রায়কে শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাজ্যপাল। পরে তিনি নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ পড়াবেন।
নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক আগামী শুক্রবার রাজ্য সচিবালয় ‘নবান্ন’-এ অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে নতুন সরকার স্থায়ীভাবে নবান্ন থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করবে না বলেও জানা গেছে। ঐতিহাসিক প্রশাসনিক ভবন ‘মহাকরণ’ বা রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কারের পর সেখান থেকেই সরকার পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। আপাতত বিধানসভাকেই অস্থায়ী সচিবালয় হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এ লক্ষ্যে বিধানসভার বিভিন্ন অংশে সংস্কার কাজও শুরু হয়েছে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাবেক আইএএস কর্মকর্তা ও বিশেষ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে নিজের পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োগ দেন শুভেন্দু অধিকারী।
অন্যদিকে একই দিনে দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। এ সময় তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান জানান। মমতা বলেন, “বিজেপিকে রুখতে সব রাজনৈতিক দল, ছাত্র-যুব সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”




















