০২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

এসএসসি-এইচএসসির সূচিতে আসছে নতুন পরিবর্তন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৪৬

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সহজ, সাশ্রয়ী এবং শিক্ষার্থীবান্ধব করতে দীর্ঘদিনের আলোচিত একক ভর্তি পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে। সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে একটি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় আনার বিষয়ে কাজ চলছে।
সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে তিনি জানান, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা ২০২৭ চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৭-ও নির্ধারিত সময়ের আগেই নেওয়া হতে পারে। এর ফলে ফল প্রকাশের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের সেশনজট কমানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে ভর্তি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতার কারণে এইচএসসি পাসের পর লাখো শিক্ষার্থীকে কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়। এতে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়ে।
বর্তমানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে দেশের নানা প্রান্তে ছুটে বেড়াতে হয়। এতে সময়, অর্থ এবং শারীরিক পরিশ্রম—সব দিক থেকেই বড় চাপ তৈরি হয়। এই ভোগান্তি কমাতে কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-এর তত্ত্বাবধানে গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। একসময় ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় এতে অংশ নিলেও পরবর্তীতে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সরে দাঁড়ায়, ফলে এর কার্যকারিতা সীমিত হয়ে পড়ে।

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-সহ দেশের শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেয়। ফলে শিক্ষার্থীদের তিন থেকে চার মাস ধরে একাধিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সব বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে একটি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-কে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসএসসি ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত হলে জুন মাসের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে। সেক্ষেত্রে জুলাই মাস থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা শুরু করা যাবে, যা বর্তমান সময়সূচির তুলনায় প্রায় চার মাস এগিয়ে আসবে।

শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, একক ভর্তি পরীক্ষা চালু করা গেলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে ভর্তি প্রক্রিয়া হবে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও সময়োপযোগী। তবে এটি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, নীতিগত ঐকমত্য এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে তারা নতুন সময়সূচি বাস্তবায়নে প্রস্তুত। যদিও এতে প্রশাসনিক চাপ কিছুটা বাড়বে, তবুও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

মন্দিরে নামযজ্ঞ চলাকালে মনিরামপুরে যুবককে কুপিয়ে জখম

এসএসসি-এইচএসসির সূচিতে আসছে নতুন পরিবর্তন

আপডেট: ১০:০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সহজ, সাশ্রয়ী এবং শিক্ষার্থীবান্ধব করতে দীর্ঘদিনের আলোচিত একক ভর্তি পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে। সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে একটি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় আনার বিষয়ে কাজ চলছে।
সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে তিনি জানান, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা ২০২৭ চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৭-ও নির্ধারিত সময়ের আগেই নেওয়া হতে পারে। এর ফলে ফল প্রকাশের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের সেশনজট কমানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে ভর্তি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতার কারণে এইচএসসি পাসের পর লাখো শিক্ষার্থীকে কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়। এতে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়ে।
বর্তমানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে দেশের নানা প্রান্তে ছুটে বেড়াতে হয়। এতে সময়, অর্থ এবং শারীরিক পরিশ্রম—সব দিক থেকেই বড় চাপ তৈরি হয়। এই ভোগান্তি কমাতে কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-এর তত্ত্বাবধানে গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। একসময় ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় এতে অংশ নিলেও পরবর্তীতে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সরে দাঁড়ায়, ফলে এর কার্যকারিতা সীমিত হয়ে পড়ে।

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-সহ দেশের শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেয়। ফলে শিক্ষার্থীদের তিন থেকে চার মাস ধরে একাধিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সব বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে একটি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-কে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসএসসি ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত হলে জুন মাসের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে। সেক্ষেত্রে জুলাই মাস থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা শুরু করা যাবে, যা বর্তমান সময়সূচির তুলনায় প্রায় চার মাস এগিয়ে আসবে।

শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, একক ভর্তি পরীক্ষা চালু করা গেলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে ভর্তি প্রক্রিয়া হবে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও সময়োপযোগী। তবে এটি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, নীতিগত ঐকমত্য এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে তারা নতুন সময়সূচি বাস্তবায়নে প্রস্তুত। যদিও এতে প্রশাসনিক চাপ কিছুটা বাড়বে, তবুও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।