১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

যশোরে তেলের লাইনে ভোগান্তি চরমে: বৃষ্টিতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা সাধারণ মানুষের

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:২৭:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০২

যশোরে চলমান জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যে আজকের দিনটি যেন নতুন করে দুর্ভোগের এক করুণ চিত্র তুলে ধরেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেলের তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় শত শত মানুষকে। পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে যখন দুপুর ১টার পর শুরু হয় ভারী বৃষ্টি—আর সেই বৃষ্টির মধ্যেই ভিজে লাইনে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক মাস ধরে জেলায় জ্বালানি তেলের সংকট চলমান রয়েছে। এই সংকটের আশঙ্কায় প্রতিদিন ভোর থেকেই পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। আজও সকাল ৭টা থেকেই মোটরসাইকেল নিয়ে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন চালকরা।

সকালের দিকে কিছু পাম্পে সীমিত পরিসরে তেল সরবরাহ করা হলেও সরবরাহ কম থাকায় দ্রুতই লাইনের চাপ বাড়তে থাকে। অনেকেই জানান, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। কেউ নিজের অবস্থান ধরে রাখতে গাড়ি রেখে পাশে দাঁড়িয়ে থেকেছেন, আবার কেউ তেল শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বারবার পাম্পকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও লাইনের দৈর্ঘ্য কমেনি, বরং আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই দুপুরের পর শুরু হয় ভারী বৃষ্টি। অনেকে ধারণা করেছিলেন বৃষ্টি হলে হয়তো কিছুটা স্বস্তি মিলবে বা লাইন কমবে, কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই তেল নেওয়ার আশায় লাইনে অটল থাকেন মানুষ।

ছাতা, পলিথিন কিংবা সামান্য আশ্রয় নিয়ে কেউ দাঁড়িয়ে থাকলেও অধিকাংশ মানুষকেই ভিজে অবস্থায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

একজন মোটরসাইকেল চালক বলেন, “সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি। ভেবেছিলাম একটু পরেই তেল পাবো, কিন্তু এখনো পাইনি। তার মধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, তবুও দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।”
আরেকজন বলেন, “লাইন ছেড়ে গেলে আবার পিছনে যেতে হবে, তাই ভিজেই দাঁড়িয়ে আছি। এমন কষ্ট আগে কখনো হয়নি।”
সংকটের শুরু থেকেই বিভিন্ন পাম্পে ছোটখাটো উত্তেজনা, তেল শেষ হয়ে যাওয়া এবং দীর্ঘ অপেক্ষার ঘটনা ঘটছে। তবে আজকের বৃষ্টির কারণে সেই ভোগান্তি আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এদিকে, ভুক্তভোগীরা দ্রুত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তবে মাঠের বাস্তব চিত্র বলছে—সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি এবং তা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

যশোরে তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে থাকা মানুষের এই দৃশ্য যেন বর্তমান পরিস্থিতির এক কঠিন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে ‘বিতর্কিত’ রসুল আটক, নাশকতা মামলায় কারাগারে প্রেরণ

যশোরে তেলের লাইনে ভোগান্তি চরমে: বৃষ্টিতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা সাধারণ মানুষের

আপডেট: ০৩:২৭:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

যশোরে চলমান জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যে আজকের দিনটি যেন নতুন করে দুর্ভোগের এক করুণ চিত্র তুলে ধরেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেলের তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় শত শত মানুষকে। পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে যখন দুপুর ১টার পর শুরু হয় ভারী বৃষ্টি—আর সেই বৃষ্টির মধ্যেই ভিজে লাইনে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক মাস ধরে জেলায় জ্বালানি তেলের সংকট চলমান রয়েছে। এই সংকটের আশঙ্কায় প্রতিদিন ভোর থেকেই পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। আজও সকাল ৭টা থেকেই মোটরসাইকেল নিয়ে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন চালকরা।

সকালের দিকে কিছু পাম্পে সীমিত পরিসরে তেল সরবরাহ করা হলেও সরবরাহ কম থাকায় দ্রুতই লাইনের চাপ বাড়তে থাকে। অনেকেই জানান, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। কেউ নিজের অবস্থান ধরে রাখতে গাড়ি রেখে পাশে দাঁড়িয়ে থেকেছেন, আবার কেউ তেল শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বারবার পাম্পকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও লাইনের দৈর্ঘ্য কমেনি, বরং আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই দুপুরের পর শুরু হয় ভারী বৃষ্টি। অনেকে ধারণা করেছিলেন বৃষ্টি হলে হয়তো কিছুটা স্বস্তি মিলবে বা লাইন কমবে, কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই তেল নেওয়ার আশায় লাইনে অটল থাকেন মানুষ।

ছাতা, পলিথিন কিংবা সামান্য আশ্রয় নিয়ে কেউ দাঁড়িয়ে থাকলেও অধিকাংশ মানুষকেই ভিজে অবস্থায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

একজন মোটরসাইকেল চালক বলেন, “সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি। ভেবেছিলাম একটু পরেই তেল পাবো, কিন্তু এখনো পাইনি। তার মধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, তবুও দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।”
আরেকজন বলেন, “লাইন ছেড়ে গেলে আবার পিছনে যেতে হবে, তাই ভিজেই দাঁড়িয়ে আছি। এমন কষ্ট আগে কখনো হয়নি।”
সংকটের শুরু থেকেই বিভিন্ন পাম্পে ছোটখাটো উত্তেজনা, তেল শেষ হয়ে যাওয়া এবং দীর্ঘ অপেক্ষার ঘটনা ঘটছে। তবে আজকের বৃষ্টির কারণে সেই ভোগান্তি আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এদিকে, ভুক্তভোগীরা দ্রুত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তবে মাঠের বাস্তব চিত্র বলছে—সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি এবং তা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

যশোরে তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে থাকা মানুষের এই দৃশ্য যেন বর্তমান পরিস্থিতির এক কঠিন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।