নোয়াখালীর বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা (১৪) হত্যা মামলার রায় আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঘোষণা করা হতে যাচ্ছে। নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এই বহু প্রতীক্ষিত রায় প্রদান করবেন।
২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার ‘জাহান মঞ্জিল’ থেকে অদিতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত মরদেহে গলা এবং হাত-পায়ের রগ কাটা ছিল, যা দেখে তৎকালীন সময়ে সারা দেশে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অদিতা ওই এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেন সরকারের মেয়ে এবং তার মা রাজিয়া সুলতানা স্থানীয় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।
হত্যাকাণ্ডের দিন রাতেই পুলিশ অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় রনির শরীরে আঁচড়ের দাগ এবং পোশাকে রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরবর্তীতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে।
মামলার অভিযোগ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়:
অদিতা কিছুদিন আগে রনির কাছে পড়া বন্ধ করে অন্যত্র কোচিং শুরু করায় রনি ক্ষুব্ধ ছিলেন।
ঘটনার দিন অদিতার মা বাসায় না থাকার সুযোগে রনি বাসায় প্রবেশ করে অদিতাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে এবং বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে তিনি অত্যন্ত নৃশংসভাবে অদিতাকে হত্যা করেন।
ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং ডাকাতির রূপ দিতে তিনি ঘরের আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র এলোমেলো করে রেখে পালিয়ে যান।
মামলাটির বিচার চলাকালীন সময়ে আদালত বাদীপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানি ও তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে আদালত আজ রায়ের দিন ধার্য করেন।
রায়ের আগে অদিতার মা রাজিয়া সুলতানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমি আমার মেয়ের হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। খুনির এমন শাস্তি হোক যেন ভবিষ্যতে আর কোনো পশুবৃত্তিক মানুষ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।”
অদিতার এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করেছে। আজ সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রায়ের দিকে পুরো নোয়াখালীবাসী তাকিয়ে আছে।
—





















