০১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

রেড গ্রাসের আড়ালে জাফরান: সোনামসজিদ বন্দরে ৮ কোটি টাকার পণ্য আটক

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫৬:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে রেড গ্রাসের নাম ব্যবহার করে আমদানি করা প্রায় ৮ কোটি টাকা মূল্যের জাফরান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
বুধবার সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ভারত থেকে আসা সন্দেহজনক এই চালানটি জব্দ করে। এর আগে সোমবার বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) রাজশাহী গবেষণাগারের পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, আমদানিকৃত পণ্যটি রেড গ্রাস নয়, বরং উচ্চমূল্যের জাফরান।
জানা গেছে, চলতি মাসের ৪ তারিখে ‘রেড গ্রাস’ নামে পণ্যটি আমদানি করে তোহা তাসু কর্পোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। চালানটি সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডে সংরক্ষিত ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে এবং পরীক্ষার জন্য রাজশাহীর বিসিএসআইআর ল্যাবে পাঠায়।

পরীক্ষায় দেখা যায়, পণ্যটি প্রকৃতপক্ষে জাফরান। দেশে বর্তমানে প্রতি কেজি জাফরান ৩ থেকে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। সে হিসেবে ২০০ কেজি জাফরানের মোট বাজারমূল্য আনুমানিক ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা।

এই আমদানির ক্ষেত্রে সিএন্ডএফ এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছে মেসার্স সূচি এন্টারপ্রাইজ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কম শুল্কের আওতায় আনার জন্যই জাফরানকে ‘রেড গ্রাস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার সাব্বির রহমান জিসান জানান, ‘পার্টস অব প্ল্যান্টস’ শিরোনামে ঘোষিত বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে ২০০ কেজি ‘রেড গ্রাস’ উল্লেখ ছিল, যা দেখতে জাফরানের মতো হওয়ায় সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে পরীক্ষায় এটি জাফরান হিসেবে শনাক্ত হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং আমদানিকারককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিসিএসআইআর রাজশাহী গবেষণাগারের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে এটি রেড গ্রাস নয়। রং কিছুটা মিল থাকলেও গঠন ও বৈশিষ্ট্যে এটি জাফরান। মাইক্রোস্কোপ পরীক্ষাতেও একই ফল পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি শুল্ক ফাঁকি ও পণ্য ঘোষণায় অসঙ্গতির একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে ‘বিতর্কিত’ রসুল আটক, নাশকতা মামলায় কারাগারে প্রেরণ

রেড গ্রাসের আড়ালে জাফরান: সোনামসজিদ বন্দরে ৮ কোটি টাকার পণ্য আটক

আপডেট: ০৯:৫৬:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে রেড গ্রাসের নাম ব্যবহার করে আমদানি করা প্রায় ৮ কোটি টাকা মূল্যের জাফরান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
বুধবার সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ভারত থেকে আসা সন্দেহজনক এই চালানটি জব্দ করে। এর আগে সোমবার বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) রাজশাহী গবেষণাগারের পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, আমদানিকৃত পণ্যটি রেড গ্রাস নয়, বরং উচ্চমূল্যের জাফরান।
জানা গেছে, চলতি মাসের ৪ তারিখে ‘রেড গ্রাস’ নামে পণ্যটি আমদানি করে তোহা তাসু কর্পোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। চালানটি সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডে সংরক্ষিত ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে এবং পরীক্ষার জন্য রাজশাহীর বিসিএসআইআর ল্যাবে পাঠায়।

পরীক্ষায় দেখা যায়, পণ্যটি প্রকৃতপক্ষে জাফরান। দেশে বর্তমানে প্রতি কেজি জাফরান ৩ থেকে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। সে হিসেবে ২০০ কেজি জাফরানের মোট বাজারমূল্য আনুমানিক ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা।

এই আমদানির ক্ষেত্রে সিএন্ডএফ এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছে মেসার্স সূচি এন্টারপ্রাইজ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কম শুল্কের আওতায় আনার জন্যই জাফরানকে ‘রেড গ্রাস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার সাব্বির রহমান জিসান জানান, ‘পার্টস অব প্ল্যান্টস’ শিরোনামে ঘোষিত বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে ২০০ কেজি ‘রেড গ্রাস’ উল্লেখ ছিল, যা দেখতে জাফরানের মতো হওয়ায় সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে পরীক্ষায় এটি জাফরান হিসেবে শনাক্ত হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং আমদানিকারককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিসিএসআইআর রাজশাহী গবেষণাগারের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে এটি রেড গ্রাস নয়। রং কিছুটা মিল থাকলেও গঠন ও বৈশিষ্ট্যে এটি জাফরান। মাইক্রোস্কোপ পরীক্ষাতেও একই ফল পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি শুল্ক ফাঁকি ও পণ্য ঘোষণায় অসঙ্গতির একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।