১০:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ‘অত্যন্ত নাজুক’: সতর্কবার্তা চীনের

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:১৪:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৫১

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতিকে ‘অত্যন্ত নাজুক’ বলে মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি সতর্ক করে বলেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়া ঠেকানো এবং কঠিন প্রচেষ্টায় অর্জিত যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সোমবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার-এর সঙ্গে ফোনালাপে ওয়াং ই বলেন, যুদ্ধবিরতি নষ্ট করে বা উত্তেজনা বাড়ায়—এমন যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।
তিনি আরও জানান, এই সংকট নিরসনে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলে চীন তা স্বাগত জানাবে। একই সঙ্গে বেইজিংও শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অংশ নিতে প্রস্তুত।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, চীন ইরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে দেশটিকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করতে পারে। ওয়াশিংটন থেকে প্রতিবেদক অ্যালান ফিশার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল হলো ইরান-কে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলা।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরানের বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানির পথ সীমিত করা, বিশ্ববাজারে প্রবেশাধিকার কমানো এবং তাদের জ্বালানি খাতকে কার্যত অচল করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের—বিশেষ করে চীনের—মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। কারণ, চীন তার অভ্যন্তরীণ তেলের চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ইরান থেকে আমদানি করে থাকে এবং চলমান সংঘাতের সময়েও এই আমদানি অব্যাহত ছিল।

তবে হঠাৎ করে যদি চীন ইরানের তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়, তাহলে সেটি বেইজিংয়ের জন্যও বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ফলে এই পরিস্থিতি দুই দেশের জন্যই কৌশলগতভাবে জটিল হয়ে উঠেছে।
বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর মাত্র নয় দিন বাকি। এ অবস্থায় ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করছেন, খুব শিগগিরই চীন ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করবে, যা শেষ পর্যন্ত তেহরানকে পুনরায় আলোচনায় ফিরতে বাধ্য করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নাজুক পরিস্থিতিতে যেকোনো ভুল পদক্ষেপ আবারও বড় ধরনের সংঘাতের দিকে বিশ্বকে ঠেলে দিতে পারে। তাই কূটনৈতিক সংযম ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

সর্বাধিক পঠিত

রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ, আদালতে আনা হয়েছে আসামি সোহেল-স্বপ্নাকে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ‘অত্যন্ত নাজুক’: সতর্কবার্তা চীনের

আপডেট: ১১:১৪:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতিকে ‘অত্যন্ত নাজুক’ বলে মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি সতর্ক করে বলেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়া ঠেকানো এবং কঠিন প্রচেষ্টায় অর্জিত যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সোমবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার-এর সঙ্গে ফোনালাপে ওয়াং ই বলেন, যুদ্ধবিরতি নষ্ট করে বা উত্তেজনা বাড়ায়—এমন যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।
তিনি আরও জানান, এই সংকট নিরসনে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলে চীন তা স্বাগত জানাবে। একই সঙ্গে বেইজিংও শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অংশ নিতে প্রস্তুত।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, চীন ইরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে দেশটিকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করতে পারে। ওয়াশিংটন থেকে প্রতিবেদক অ্যালান ফিশার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল হলো ইরান-কে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলা।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরানের বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানির পথ সীমিত করা, বিশ্ববাজারে প্রবেশাধিকার কমানো এবং তাদের জ্বালানি খাতকে কার্যত অচল করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের—বিশেষ করে চীনের—মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। কারণ, চীন তার অভ্যন্তরীণ তেলের চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ইরান থেকে আমদানি করে থাকে এবং চলমান সংঘাতের সময়েও এই আমদানি অব্যাহত ছিল।

তবে হঠাৎ করে যদি চীন ইরানের তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়, তাহলে সেটি বেইজিংয়ের জন্যও বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ফলে এই পরিস্থিতি দুই দেশের জন্যই কৌশলগতভাবে জটিল হয়ে উঠেছে।
বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর মাত্র নয় দিন বাকি। এ অবস্থায় ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করছেন, খুব শিগগিরই চীন ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করবে, যা শেষ পর্যন্ত তেহরানকে পুনরায় আলোচনায় ফিরতে বাধ্য করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নাজুক পরিস্থিতিতে যেকোনো ভুল পদক্ষেপ আবারও বড় ধরনের সংঘাতের দিকে বিশ্বকে ঠেলে দিতে পারে। তাই কূটনৈতিক সংযম ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাই এখন সবচেয়ে জরুরি।