১১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

দিনাজপুরে থানায় জিডি করতে গিয়ে লাঞ্ছিত সাংবাদিক: কলার ধরে লকআপে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:১৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১০

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানায় মোবাইল ফোন হারানোর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়ে চরম দুর্ব্যবহার ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি জাফর ইকবাল । সোমবার সকালে থানা চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে জাফর ইকবাল তার হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনের বিষয়ে জিডি করতে থানায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি ধারাবাহিক হয়রানির শিকার হন
প্রথমে কম্পিউটার অপারেটর মো. সেলিমের কাছে গেলে তাকে ডিউটি অফিসার মো. আখতারুজ্জামানের কাছে পাঠানো হয়। ডিউটি অফিসার তাকে পুনরায় অপারেটরের কাছে পাঠান। এভাবে কয়েক দফা ঘোরানোর পর বিরক্ত হয়ে তিনি নিজের সাংবাদিক পরিচয় দেন।
পরিচয় দেওয়ার পর ডিউটি অফিসার তার প্রেস আইডি কার্ড দেখতে চান এবং সেটি নিয়ে নিজের কক্ষে আটকে রাখেন।
হয়রানির বিষয়টি তিনি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আহসান হাবিবকে ফোনে জানান। এর কিছুক্ষণ পর এএসআই আশরাফুল ও এসআই জহুরুল হক ঘটনাস্থলে আসেন। কথা বলার একপর্যায়ে ডিউটি অফিসার আখতারুজ্জামান উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিক জাফর ইকবালের শার্টের কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে লকআপে ঢোকানোর চেষ্টা করেন, এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন।

উপস্থিত সাধারণ মানুষের সামনে পুলিশের এমন মারমুখী আচরণে চরম অপমানিত বোধ করেন ওই সংবাদকর্মী। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী পুলিশ সদস্যের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা।
একজন গণমাধ্যমকর্মী যদি থানায় গিয়ে এমন পরিস্থিতির শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আব্দুল হালিম জানান, তিনি ইতিমধ্যে চিরিরবন্দর থানা পরিদর্শন করেছেন এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, “লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এই ঘটনাটি পুলিশ ও সাংবাদিকের মধ্যকার পেশাগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপই পারে জনমনে পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে।

সর্বাধিক পঠিত

দিনাজপুরে থানায় জিডি করতে গিয়ে লাঞ্ছিত সাংবাদিক: কলার ধরে লকআপে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ

দিনাজপুরে থানায় জিডি করতে গিয়ে লাঞ্ছিত সাংবাদিক: কলার ধরে লকআপে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ

আপডেট: ১১:১৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানায় মোবাইল ফোন হারানোর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়ে চরম দুর্ব্যবহার ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি জাফর ইকবাল । সোমবার সকালে থানা চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে জাফর ইকবাল তার হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনের বিষয়ে জিডি করতে থানায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি ধারাবাহিক হয়রানির শিকার হন
প্রথমে কম্পিউটার অপারেটর মো. সেলিমের কাছে গেলে তাকে ডিউটি অফিসার মো. আখতারুজ্জামানের কাছে পাঠানো হয়। ডিউটি অফিসার তাকে পুনরায় অপারেটরের কাছে পাঠান। এভাবে কয়েক দফা ঘোরানোর পর বিরক্ত হয়ে তিনি নিজের সাংবাদিক পরিচয় দেন।
পরিচয় দেওয়ার পর ডিউটি অফিসার তার প্রেস আইডি কার্ড দেখতে চান এবং সেটি নিয়ে নিজের কক্ষে আটকে রাখেন।
হয়রানির বিষয়টি তিনি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আহসান হাবিবকে ফোনে জানান। এর কিছুক্ষণ পর এএসআই আশরাফুল ও এসআই জহুরুল হক ঘটনাস্থলে আসেন। কথা বলার একপর্যায়ে ডিউটি অফিসার আখতারুজ্জামান উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিক জাফর ইকবালের শার্টের কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে লকআপে ঢোকানোর চেষ্টা করেন, এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন।

উপস্থিত সাধারণ মানুষের সামনে পুলিশের এমন মারমুখী আচরণে চরম অপমানিত বোধ করেন ওই সংবাদকর্মী। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী পুলিশ সদস্যের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা।
একজন গণমাধ্যমকর্মী যদি থানায় গিয়ে এমন পরিস্থিতির শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আব্দুল হালিম জানান, তিনি ইতিমধ্যে চিরিরবন্দর থানা পরিদর্শন করেছেন এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, “লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এই ঘটনাটি পুলিশ ও সাংবাদিকের মধ্যকার পেশাগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপই পারে জনমনে পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে।