১১:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে কিশোরী কে হত্যা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:২৩:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৪৩

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ১৬ বছর বয়সী এক আদিবাসী কিশোরী গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ওই কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে ঘটনাটি ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে চালিয়ে দিতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।
নিহত কিশোরীর নাম **মায়া চাকমা (১৬)**। তিনি উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তেলখোলা গ্রামের ক্যউছিং চাকমার মেয়ে। মায়া গত প্রায় এক বছর ধরে রামু উপজেলার পশ্চিম পাড়া মেরংলোয়া গ্রামে **সাধন বড়ুয়ার** বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন।

মায়ার বাবা ক্যউছিং চাকমা জানান, ঘটনার মাসখানেক আগে মেয়ের সাথে তার শেষ কথা হয়েছিল। তখন মায়া বেশ স্বাভাবিক ও হাসিখুশি ছিল। আসন্ন পহেলা বৈশাখের আগে বাড়ির মালিক নিজেই তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেবেন—এমন আশ্বাসে মায়া বাড়িতে না গিয়ে আরও কিছুদিন সেখানে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

গত ১২ এপ্রিলসকালে মায়ার বাবা তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বিকেলে মায়ার খালার ফোনে সাধন বড়ুয়ার বাড়ি থেকে একটি রহস্যময় কল আসে। ফোনে শুধু বলা হয়, **“আপনারা দ্রুত এখানে আসেন”একথা বলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা সাধন বড়ুয়ার বাড়িতে পৌঁছে মায়ার মরদেহ সাদা কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান। বাড়ির লোকজন সেটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে দাবি করলেও স্বজনরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি:
মায়ার শরীরে আত্মহত্যার কোনো সুস্পষ্ট আলামত ছিল না।
মায়ার আচরণে কখনো আত্মহননের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে, বাড়ির মালিকের প্রবাসফেরত ছেলে কয়েকদিন আগে দেশে আসেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি মায়াকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর গৃহকর্তা সাধন বড়ুয়া তাদের মামলা না করার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। পরিবারের আর্থিক অভাব-অনটনের সুযোগ নিয়ে তিনি বলেন, মামলা করলে পুলিশ টাকা ছাড়া কাজ করবে না।”** এর পরিবর্তে তিনি মেয়ের সৎকারের সমস্ত খরচ বহনের প্রস্তাব দেন। গৃহকর্তার এমন আচরণে পরিবারের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

নিহতের বাবা ক্যউছিং চাকমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, **“আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

অন্যদিকে, বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান জানান, বিষয়টি তার জানা নেই এবং এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তিনি পাননি। তবে স্থানীয়রা এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও মায়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জোর দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সর্বাধিক পঠিত

রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ, আদালতে আনা হয়েছে আসামি সোহেল-স্বপ্নাকে

কক্সবাজারের ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে কিশোরী কে হত্যা

আপডেট: ০৯:২৩:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ১৬ বছর বয়সী এক আদিবাসী কিশোরী গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ওই কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে ঘটনাটি ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে চালিয়ে দিতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।
নিহত কিশোরীর নাম **মায়া চাকমা (১৬)**। তিনি উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তেলখোলা গ্রামের ক্যউছিং চাকমার মেয়ে। মায়া গত প্রায় এক বছর ধরে রামু উপজেলার পশ্চিম পাড়া মেরংলোয়া গ্রামে **সাধন বড়ুয়ার** বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন।

মায়ার বাবা ক্যউছিং চাকমা জানান, ঘটনার মাসখানেক আগে মেয়ের সাথে তার শেষ কথা হয়েছিল। তখন মায়া বেশ স্বাভাবিক ও হাসিখুশি ছিল। আসন্ন পহেলা বৈশাখের আগে বাড়ির মালিক নিজেই তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেবেন—এমন আশ্বাসে মায়া বাড়িতে না গিয়ে আরও কিছুদিন সেখানে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

গত ১২ এপ্রিলসকালে মায়ার বাবা তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বিকেলে মায়ার খালার ফোনে সাধন বড়ুয়ার বাড়ি থেকে একটি রহস্যময় কল আসে। ফোনে শুধু বলা হয়, **“আপনারা দ্রুত এখানে আসেন”একথা বলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা সাধন বড়ুয়ার বাড়িতে পৌঁছে মায়ার মরদেহ সাদা কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান। বাড়ির লোকজন সেটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে দাবি করলেও স্বজনরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি:
মায়ার শরীরে আত্মহত্যার কোনো সুস্পষ্ট আলামত ছিল না।
মায়ার আচরণে কখনো আত্মহননের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে, বাড়ির মালিকের প্রবাসফেরত ছেলে কয়েকদিন আগে দেশে আসেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি মায়াকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর গৃহকর্তা সাধন বড়ুয়া তাদের মামলা না করার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। পরিবারের আর্থিক অভাব-অনটনের সুযোগ নিয়ে তিনি বলেন, মামলা করলে পুলিশ টাকা ছাড়া কাজ করবে না।”** এর পরিবর্তে তিনি মেয়ের সৎকারের সমস্ত খরচ বহনের প্রস্তাব দেন। গৃহকর্তার এমন আচরণে পরিবারের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

নিহতের বাবা ক্যউছিং চাকমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, **“আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

অন্যদিকে, বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান জানান, বিষয়টি তার জানা নেই এবং এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তিনি পাননি। তবে স্থানীয়রা এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও মায়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জোর দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।