যশোর শহরের যশোর পৌরপার্ক-এর চারুপীঠ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে ব্যস্ততার এক ভিন্ন জগৎ। কোথাও কাগজে পাখি কিংবা ফুলের প্রাণ দিচ্ছেন শিল্পীরা, আবার কোথাও তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে লোকজ নকশা। ক্লান্তি থাকলেও সবার চোখেমুখে স্পষ্ট এক আনন্দের ঝিলিক—পহেলা বৈশাখকে ঘিরে উৎসবের উচ্ছ্বাস।
বৈশাখ মানেই নতুনের আহ্বান। সেই আহ্বানকে বরণ করে নিতে যশোরের চারুপীঠ এখন যেন এক বিশাল সৃজনশীল কর্মশালায় পরিণত হয়েছে। দিন-রাত নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমে শিল্পী, শিক্ষার্থী ও সংগঠকরা তৈরি করছেন নানা রকম শিল্পকর্ম, যা শোভাযাত্রায় যোগ করবে ভিন্নমাত্রা।
এবারের আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৮ ফুট উচ্চতার এক বিশাল মোরগের প্রতিকৃতি, যা নতুন দিনের জাগরণের প্রতীক হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে নির্মাণ করা হচ্ছে পায়রা, আর গ্রামীণ জীবনের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরতে থাকছে শেয়ালের প্রতিরূপ।
শোভাযাত্রাকে আরও বর্ণিল ও প্রাণবন্ত করতে প্রস্তুত করা হয়েছে শত শত রাজা-রানির মুকুট, রঙিন মুখোশ এবং থিমভিত্তিক ফেস্টুন। এসব শিল্পকর্মে ফুটে উঠবে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, প্রকৃতি এবং সমকালীন ভাবনার মেলবন্ধন।
চারুপীঠ শুধু একটি আয়োজনের নাম নয়, এটি বাংলাদেশের বৈশাখী শোভাযাত্রার সূতিকাগার। ১৯৮৫ সালে এখান থেকেই শুরু হয়েছিল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’, যা পরবর্তীতে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে দেশজুড়ে পরিচিতি পায় এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও অর্জন করে। চার দশকের পথ পেরিয়ে এবার সেই ঐতিহ্য দাঁড়িয়ে আছে নতুন এক মাইলফলকের সামনে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, পহেলা বৈশাখের আগের দিন বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে বর্ষবিদায় অনুষ্ঠান, যেখানে থাকবে বিশেষ নৃত্য পরিবেশনা। আর বাংলা নববর্ষের সকাল শুরু হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে, যা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার চারুপীঠ প্রাঙ্গণেই এসে শেষ হবে।
সব মিলিয়ে, রঙ, রূপ ও ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধনে যশোরের চারুপীঠ প্রস্তুত নতুন বছরকে বরণ করে নিতে—উৎসবমুখর এক আনন্দঘন পরিবেশে।




















