০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বিয়ের রাতে বাড়ি ফিরলেন লাশ হয়ে — কেশবপুরে তরুণ সোহানের মর্মান্তিক মৃত্যু

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৫

যে রাতে বিয়ের সাজে নতুন জীবনে পা রাখার কথা ছিল, সেই রাতেই লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন যশোরের কেশবপুর উপজেলার এক তরতাজা যুবক সোহান (২৮)। তার আকস্মিক মৃত্যুর খবরে মুহূর্তেই থেমে যায় বিয়ের আনন্দ, আর আনন্দঘন বাড়ি পরিণত হয় শোকের মাতমে।

যশোরের কেশবপুর উপজেলা পাঁজিয়া ইউনিয়নের পাঁজিয়া গ্রামের বাসিন্দা যুবদল নেতা সোহরাব হোসেনের একমাত্র সন্তান ছিলেন সোহান। তিনি আকিজ গ্রুপ-এ চাকরির সুবাদে কুষ্টিয়ায় অবস্থান করতেন। পরিবারের একমাত্র সন্তান হওয়ায় তাকে ঘিরেই ছিল বাবা-মায়ের সব স্বপ্ন।

পারিবারিকভাবে বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছিল। অসুস্থ মায়ের ইচ্ছাতেই দ্রুত বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সোহানকে বাড়িতে আসতে বলা হয়। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কনের পক্ষের লোকজনের তাদের বাড়িতে আসার কথা ছিল। পুরো বাড়িতে তখন সাজ সাজ রব, আনন্দ আর ব্যস্ততা।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—সেই দিন সকালে কুষ্টিয়া থেকে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতির সময় হঠাৎ স্ট্রোকজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন সোহান। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলেও চিকিৎসা শুরুর আগেই তার মৃত্যু হয়।

এই খবর যখন গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়, তখন বিয়ের সব প্রস্তুতি থমকে যায়। যে বাড়িতে নববধূর আগমনের অপেক্ষা ছিল, সেই বাড়িতেই নেমে আসে কান্না আর হাহাকার। মুহূর্তেই বদলে যায় সবকিছু—অনন্দের আয়োজন রূপ নেয় এক অসমাপ্ত জীবনের নিঃশব্দ সাক্ষীতে।

শুক্রবার সকালে পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে শোকের আবহ আরও ভারী হয়ে ওঠে।
পাঁজিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক রশিদুল হাসান জানান, একমাত্র সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এলাকাবাসীও এই ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত।
স্থানীয় বাসিন্দা হাচান গাজী বলেন, “যে বাড়িতে সকাল-সন্ধ্যা বিয়ের আনন্দ ছিল, সেখানে হঠাৎ এমন শোক নেমে আসবে—এটা আমরা কেউ কল্পনাও করতে পারিনি। ছেলেটা খুব নম্র ও ভদ্র ছিল।”
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাঁজিয়া গ্রামের মানুষের চোখে-মুখে এখন শুধুই বেদনার ছাপ—একটি স্বপ্নময় জীবনের এমন আকস্মিক অবসান যেন সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

বৈশাখের রঙে রাঙা যশোর চারুপীঠ: শিল্প-ঐতিহ্যে জমে উঠেছে প্রস্তুতির শেষ মুহূর্ত

বিয়ের রাতে বাড়ি ফিরলেন লাশ হয়ে — কেশবপুরে তরুণ সোহানের মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেট: ০৮:১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

যে রাতে বিয়ের সাজে নতুন জীবনে পা রাখার কথা ছিল, সেই রাতেই লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন যশোরের কেশবপুর উপজেলার এক তরতাজা যুবক সোহান (২৮)। তার আকস্মিক মৃত্যুর খবরে মুহূর্তেই থেমে যায় বিয়ের আনন্দ, আর আনন্দঘন বাড়ি পরিণত হয় শোকের মাতমে।

যশোরের কেশবপুর উপজেলা পাঁজিয়া ইউনিয়নের পাঁজিয়া গ্রামের বাসিন্দা যুবদল নেতা সোহরাব হোসেনের একমাত্র সন্তান ছিলেন সোহান। তিনি আকিজ গ্রুপ-এ চাকরির সুবাদে কুষ্টিয়ায় অবস্থান করতেন। পরিবারের একমাত্র সন্তান হওয়ায় তাকে ঘিরেই ছিল বাবা-মায়ের সব স্বপ্ন।

পারিবারিকভাবে বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছিল। অসুস্থ মায়ের ইচ্ছাতেই দ্রুত বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সোহানকে বাড়িতে আসতে বলা হয়। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কনের পক্ষের লোকজনের তাদের বাড়িতে আসার কথা ছিল। পুরো বাড়িতে তখন সাজ সাজ রব, আনন্দ আর ব্যস্ততা।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—সেই দিন সকালে কুষ্টিয়া থেকে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতির সময় হঠাৎ স্ট্রোকজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন সোহান। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলেও চিকিৎসা শুরুর আগেই তার মৃত্যু হয়।

এই খবর যখন গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়, তখন বিয়ের সব প্রস্তুতি থমকে যায়। যে বাড়িতে নববধূর আগমনের অপেক্ষা ছিল, সেই বাড়িতেই নেমে আসে কান্না আর হাহাকার। মুহূর্তেই বদলে যায় সবকিছু—অনন্দের আয়োজন রূপ নেয় এক অসমাপ্ত জীবনের নিঃশব্দ সাক্ষীতে।

শুক্রবার সকালে পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে শোকের আবহ আরও ভারী হয়ে ওঠে।
পাঁজিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক রশিদুল হাসান জানান, একমাত্র সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এলাকাবাসীও এই ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত।
স্থানীয় বাসিন্দা হাচান গাজী বলেন, “যে বাড়িতে সকাল-সন্ধ্যা বিয়ের আনন্দ ছিল, সেখানে হঠাৎ এমন শোক নেমে আসবে—এটা আমরা কেউ কল্পনাও করতে পারিনি। ছেলেটা খুব নম্র ও ভদ্র ছিল।”
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাঁজিয়া গ্রামের মানুষের চোখে-মুখে এখন শুধুই বেদনার ছাপ—একটি স্বপ্নময় জীবনের এমন আকস্মিক অবসান যেন সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।