০৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

বৈশাখের আগে ইলিশের বাজারে আগুন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহে বড় ঘাটতি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:৫৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৪

পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে বরিশালের বাজারে ইলিশ মাছের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ আশানুরূপ না থাকায় দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে যে পরিমাণ ইলিশ প্রয়োজন, তার এক-তৃতীয়াংশও পাওয়া যাচ্ছে না।

গত এক সপ্তাহে বড় সাইজের ইলিশের দাম বেড়েছে প্রায় দেড় হাজার টাকা। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ২০০ টাকায়। এর চেয়ে বড়, দেড় কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ বাজারে প্রায় নেই বললেই চলে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৭০০–৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৩ হাজার টাকা, ৫০০ গ্রাম সাইজের ২ হাজার টাকা, ৪০০ গ্রাম ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৩০০ গ্রাম সাইজের মাছ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩৫০ টাকায়। এছাড়া জাটকা বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা দরে।

নগরীর পোর্ট রোডের ইলিশ মোকামে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে অল্প কিছু মাছ দেখা গেছে। বিক্রেতা আকতার হোসেন জানান, বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের চাহিদা প্রতি বছরই বাড়ে, কিন্তু এবার সরবরাহ খুবই কম। ফলে দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ নদীতে চর জেগে ওঠার কারণে জাটকা সহজে সমুদ্রে যেতে পারছে না। ফলে জাটকা নদীতেই আটকা পড়ে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। এতে সমুদ্রে গিয়ে বড় ইলিশে পরিণত হওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে, যা সরাসরি উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে।

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. হাদিউজ্জামান বলেন, “নদীতে জাটকা আটকে পড়ার কারণে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
এদিকে মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, ইলিশের বাজারদর নিয়ন্ত্রণে তাদের সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই। তবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাইকারি ও খুচরা বাজারে অতিরিক্ত দাম আদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
সামনে বৈশাখ—তাই ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশের আয়োজন করতে গিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে বাড়তি চাপ পড়ছে।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে এনআরবি ব্যাংক পিএলসি-এর প্রণোদনা ঋণ বিতরণ

বৈশাখের আগে ইলিশের বাজারে আগুন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহে বড় ঘাটতি

আপডেট: ০৭:৫৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে বরিশালের বাজারে ইলিশ মাছের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ আশানুরূপ না থাকায় দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে যে পরিমাণ ইলিশ প্রয়োজন, তার এক-তৃতীয়াংশও পাওয়া যাচ্ছে না।

গত এক সপ্তাহে বড় সাইজের ইলিশের দাম বেড়েছে প্রায় দেড় হাজার টাকা। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ২০০ টাকায়। এর চেয়ে বড়, দেড় কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ বাজারে প্রায় নেই বললেই চলে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৭০০–৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৩ হাজার টাকা, ৫০০ গ্রাম সাইজের ২ হাজার টাকা, ৪০০ গ্রাম ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৩০০ গ্রাম সাইজের মাছ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩৫০ টাকায়। এছাড়া জাটকা বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা দরে।

নগরীর পোর্ট রোডের ইলিশ মোকামে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে অল্প কিছু মাছ দেখা গেছে। বিক্রেতা আকতার হোসেন জানান, বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের চাহিদা প্রতি বছরই বাড়ে, কিন্তু এবার সরবরাহ খুবই কম। ফলে দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ নদীতে চর জেগে ওঠার কারণে জাটকা সহজে সমুদ্রে যেতে পারছে না। ফলে জাটকা নদীতেই আটকা পড়ে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। এতে সমুদ্রে গিয়ে বড় ইলিশে পরিণত হওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে, যা সরাসরি উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে।

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. হাদিউজ্জামান বলেন, “নদীতে জাটকা আটকে পড়ার কারণে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
এদিকে মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, ইলিশের বাজারদর নিয়ন্ত্রণে তাদের সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই। তবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাইকারি ও খুচরা বাজারে অতিরিক্ত দাম আদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
সামনে বৈশাখ—তাই ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশের আয়োজন করতে গিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে বাড়তি চাপ পড়ছে।