পাবনার সুজানগরে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই সংঘাত চলাকালে প্রতিপক্ষের গুলিতে চায়না খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন।
নিহত চায়না খাতুন ওই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকহাট ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপ এবং হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
রোববার রাতে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জেরে সোমবার সকালে উভয় পক্ষের সমর্থকরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হলে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলি শুরু হয়। এসময় নিজ বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চায়না খাতুন।
বর্তমান পরিস্থিতি
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
* ইসলাম প্রামাণিকের দাবি: রাজার নেতৃত্বে পরিকল্পিত সশস্ত্র হামলায় তাদের কর্মী ও সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছে।
* পাল্টা অভিযোগ: অভিযুক্ত রাফিউল ইসলাম রাজা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং তাকে ফাঁসাতে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ জানান, খবর পাওয়া মাত্রই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার মূল কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সংঘাত ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।




















