পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনেও পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনিদের নামাজ আদায়ে কঠোর বাধা দিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম ঈদের দিনে মসজিদটি কার্যত বন্ধ রাখার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটলো। শুক্রবার (২০ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার ভোরে ইসরায়েলি সেনারা মসজিদের প্রধান ফটকগুলো বন্ধ করে দেয় এবং ভেতরের চত্বরে মুসল্লিদের প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে। ফলে শত শত মুসল্লি পবিত্র এই স্থানে প্রবেশ করতে না পেরে মসজিদের প্রবেশদ্বার এবং আশপাশের রাস্তাগুলোতে নামাজ আদায় করতে বাধ্য হন।
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের দামেস্ক গেট এলাকায় বিপুল সংখ্যক মুসল্লি জড়ো হন, কারণ সেখান থেকেই তারা মসজিদের সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়ে নামাজ পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত ২১ দিন ধরে আল-আকসা মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশে নিয়মিত বাধা দিয়ে আসছে ইসরায়েল।
তীব্র নিন্দা ও ‘জুডাইজেশন’ এর অভিযোগ
জেরুজালেম গভর্নরেট এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ এবং ‘ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো নতুন ‘জুডাইজেশন’ (ইহুদিকরণ) বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়া এবং ইসলামি পরিবেশ থেকে মসজিদটিকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা।
গাজায় ধ্বংসস্তূপের ওপর ঈদের জামাত
অন্যদিকে, দীর্ঘস্থায়ী হামলা ও গণহত্যার শিকার হওয়া সত্ত্বেও গাজাবাসীরা তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য বজায় রেখেছেন। গাজার বিভিন্ন স্থানে খোলা জায়গায় এবং ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের সামনেই ঈদের নামাজ আদায় করেছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা।
স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলায় গাজার প্রায় ১,২৪০টি মসজিদের মধ্যে ১,১০০টিরও বেশি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এত বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ ও শোকের মাঝেও ফিলিস্তিনিরা ত্যাগের মহিমায় ঈদ উদযাপন করছেন।




















