পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে দেশে বিদেশি ফলের আকাশচুম্বী চাহিদা থাকলেও দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে ফল আমদানিতে স্থবিরতা নেমে এসেছে। আমদানিকারকদের অভিযোগ, প্রতিবেশী ভোমরা স্থলবন্দরের তুলনায় বেনাপোলে শুল্ক নির্ধারণে চরম বৈষম্য এবং বিতর্কিত ‘স্লাব পদ্ধতি’র কারণে ব্যবসায়ীরা এই বন্দর ছাড়ছেন। এর ফলে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব ঘাটতিতে পড়েছে বেনাপোল কাস্টমস।
বেনাপোল বনাম ভোমরা: খরচের হিসাব
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, বেনাপোল দিয়ে ফল আমদানি করা এখন রীতিমতো লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি তুলনামূলক চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
* অতিরিক্ত শুল্ক: ভোমরা বন্দরের তুলনায় বেনাপোলে প্রতি ট্রাক ফলে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব দিতে হচ্ছে।
* ওজন জটিলতা: বেনাপোলে প্রকৃত ওজনের ওপর উল্টো অতিরিক্ত ৫০০ কেজি ওজন চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
* আমদানি চিত্র: গত সোমবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বেনাপোল দিয়ে ৩০৮ ট্রাক পণ্য এলেও ভোমরা দিয়ে এসেছে ৩২২ ট্রাক।
বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ভোমরা স্থলবন্দরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। তাদের দাবি, ভোমরা বন্দরের উপপরিচালক মামুন কবীর তরফদার এবং ট্রাফিক পরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেনের যোগসাজশে ওজন স্কেলে কারচুপি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতি ট্রাকে ২ থেকে ৩ টন ওজনে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে সরকারকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
> “যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বেনাপোল ব্যবহার করতে চায়, কিন্তু একটি চক্র ব্যক্তিস্বার্থে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ভোরামুমুখী করছে। এতে বেনাপোলের কাঁচামাল ব্যবসা আজ ধসের মুখে।”
> — জিয়াউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক, বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতি।
>
আমদানিকারকদের প্রতিনিধি জাবেদ হোসেন সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই শুল্ক বৈষম্য দ্রুত নিরসন করা না হলে বেনাপোল দিয়ে কাঁচামাল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী এবং আরও বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতিতে পড়বে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের দাবি:
১. বেনাপোল ও ভোমরা বন্দরের মধ্যে শুল্ক হার ও ওজন প্রক্রিয়ায় সমতা আনা।
২. ওজন স্কেলের কারচুপি বন্ধে কঠোর তদারকি।
৩. আমদানিকারকদের জন্য ‘স্লাব পদ্ধতি’ সহজীকরণ।




















