যশোরে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন মিনারুল কবির শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি ইসমাইল হোসেনকে (২৪) গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর শহরের শংকরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ইসমাইল যশোর সদর উপজেলার শ্রীকান্তনগর গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলেন।
র্যাব ও মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, নিহত মিনারুল কবির শামীম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। গত ১৬ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সদর উপজেলার বলাডাঙ্গা গ্রামের গোবিন্দ মোড়ে একটি দোকানের সামনের মাচার ওপর তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। ওই রাতে সংশ্লিষ্ট দোকানে একটি চুরির ঘটনা ঘটলে দোকানদার ও তার সহযোগীরা কোনো প্রমাণ ছাড়াই শামীমকে সন্দেহ করেন।
চুরির অপবাদ দিয়ে শামীমের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালানো হয়। লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে রাত ৪টার দিকে গুরুতর জখম ও অচেতন অবস্থায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের বাবা বাদী হয়ে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর থেকেই ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-৬ যশোরের সদস্যরা। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর শনিবার ইসমাইলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় বাহিনীটি।
র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে তাকে যশোর আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষকে বিনা অপরাধে পিটিয়ে মারার এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা এই গ্রেফতারকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং মামলার অন্য আসামিদেরও দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।




















