ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। পিসিবির এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে আইসিসি এবং সম্প্রচারকারী স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে।
পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ স্পষ্ট না করলেও দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, আইসিসির পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রতিবাদেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত। ভারতের মাটিতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত আইসিসি নিয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পাকিস্তান। মূলত বাংলাদেশের প্রতি বৈষম্যের প্রতিবাদেই তারা এই বয়কটের পথ বেছে নিয়েছে।
২০১৮ সালের ‘ডিআরসি’ তিক্ততা ও প্রতিশোধের সুর
পিসিবির একটি সূত্র প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডন-কে জানিয়েছে, এই অনড় অবস্থানের শিকড় আরও গভীরে। এর পেছনে কাজ করছে ২০১৮ সালের একটি পুরোনো তিক্ত অভিজ্ঞতা।
: ২০১৪ সালে বিসিসিআই ও পিসিবির মধ্যে ২০১৫-২০২৩ সালের মধ্যে ছয়টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়।: সিরিজের শর্তে পাকিস্তান আইসিসির বিতর্কিত ‘বিগ থ্রি’ রাজস্ব মডেলে ভারতকে সমর্থন দিয়েছিল।: পরবর্তীতে ভারত পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে পিসিবি ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইসিসির ‘ডিসপিউট রিসলিউশন কমিটির’ (ডিআরসি) কাছে। তবে আইসিসি পাকিস্তানের সেই দাবি খারিজ করে ভারতের পক্ষে রায় দেয়।
আট বছর আগের সেই ডিআরসি রায়ে বিসিসিআই যুক্তি দিয়েছিল, পাকিস্তান সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল ভারত সরকারের। এবার পাকিস্তানও একই কৌশলে হাঁটছে। পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি আইসিসিকে জানিয়েছেন, ভারতের বিপক্ষে না খেলার সিদ্ধান্ত সরাসরি পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এসেছে।
পিসিবির যুক্তি হচ্ছে— যদি সরকারি নির্দেশনার কারণে আগে ভারত ছাড় পেয়ে থাকে, তবে একই যুক্তিতে পাকিস্তান কেন শাস্তি পাবে? প্রয়োজনে এই ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (CAS) যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে তারা।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই টুর্নামেন্টের সিংহভাগ রাজস্ব। এই ম্যাচ না হলে আইসিসি এবং স্পনসররা শত শত কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়বে। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পাকিস্তানকে মাঠে ফেরাতে পারে কি না, নাকি ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের লড়াই ছাড়াই মাঠে গড়ায়।




















