বেনাপোল প্রতিনিধি |
যশোরের শার্শায় পল্লী চিকিৎসক আলামিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে বড় সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন:আলাউদ্দিন আলা (দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে)লালন হোসেন (একই গ্রামের জামির হোসেনের ছেলে) সেলিম মিয়া (আব্দুল কাদেরের ছেলে)
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ: ২ লাখ টাকা চাঁদা ও পরকীয়া বিতর্ক
তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্রমতে, নিহত আলামিনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছিল। তিনি একজন পুলিশ সদস্যের সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করে শার্শার নাভারণ এলাকায় ভাড়া থাকতেন। এই বিয়ের জেরে গত তিন মাস আগে গ্রেফতারকৃত আলাউদ্দিন ও সেলিম আলামিনকে মারধর করে ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই পুরনো শত্রুতা ও ধারাবাহিক চাঁদাবাজির চূড়ান্ত পরিণতি এই হত্যাকাণ্ড।
স্থানীয়দের দাবি, গ্রেফতারকৃতরা জাতীয়তাবাদী যুবদলের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত এবং স্থানীয় এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার ঘনিষ্ঠ অনুসারী। গ্রেফতারের পর ওই নেতা তাদের ছাড়িয়ে নিতে থানায় তদবির করতে গেলেও পুলিশের কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকার কারণে তিনি ব্যর্থ হন। অভিযুক্ত সেলিম নাভারণ এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আয়নাল ও জয়নালের ভাই বলে জানা গেছে।
শার্শা থানার ওসি (তদন্ত) শাহ আলম জানিয়েছেন:
“পল্লী চিকিৎসক আলামিন হত্যার ঘটনায় ২০ ফেব্রুয়ারি একটি মামলা (মামলা নং-১৩) দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সাথে আটককৃতদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের যশোর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আমরা কঠোর অবস্থান বজায় রাখছি।”




















