০৯:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরিশালে মাদরাসা ছাত্রকে বুকে লাথি মেরে হত্যা: প্রতিবেশী আটক

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:০১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৫১

বরিশালের হিজলা উপজেলায় মাদরাসা পড়ুয়া ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার পর মরদেহ খালে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। উপজেলার গৌরাব্দি ইউনিয়নের চর বিশোর গ্রাম থেকে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আরিফ রাঢ়ী নামে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী মোশাররফ হোসেনকে (৪০) আটক করা হয়েছে।

নিহত আরিফ রাঢ়ী ওই গ্রামের আনিছ রাঢ়ীর ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সহকারী পুলিশ সুপার তারেক আমান বান্না জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মোশাররফ হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
স্বীকারোক্তির বরাতে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার এশার নামাজের আগে আরিফ প্রতিবেশী মোশাররফের ঘরে গিয়ে তাকে নামাজ পড়তে যাওয়ার জন্য ডাক দেয়। মোশাররফ বিছানা থেকে উঠতে না চাইলে আরিফ তাকে একটি চড় মারে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোশাররফ শিশুর বুকে সজোরে লাথি মারলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনা ধামাচাপা দিতে রাতে মরদেহটি বাড়ির পাশের খালে ফেলে দেয় অভিযুক্ত।
নিহতের বাবা আনিছ রাঢ়ী জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে আরিফ নিখোঁজ ছিল। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা খালের পাড়ে তার নগ্ন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে মোশাররফকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

আরিফের পরিবারের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কেবল নামাজের ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ কাজ করতে পারে। নিহতের বাবার অভিযোগ, রাতে যখন তারা ছেলেকে খুঁজছিলেন, তখন মোশাররফ তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, “মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত মোশাররফকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

সর্বাধিক পঠিত

বড় আঁচড়ায় পঞ্চম দিনের গণসংযোগে ইমদাদুল হক ইমদাদ

বরিশালে মাদরাসা ছাত্রকে বুকে লাথি মেরে হত্যা: প্রতিবেশী আটক

আপডেট: ০১:০১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরিশালের হিজলা উপজেলায় মাদরাসা পড়ুয়া ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার পর মরদেহ খালে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। উপজেলার গৌরাব্দি ইউনিয়নের চর বিশোর গ্রাম থেকে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আরিফ রাঢ়ী নামে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী মোশাররফ হোসেনকে (৪০) আটক করা হয়েছে।

নিহত আরিফ রাঢ়ী ওই গ্রামের আনিছ রাঢ়ীর ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সহকারী পুলিশ সুপার তারেক আমান বান্না জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মোশাররফ হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
স্বীকারোক্তির বরাতে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার এশার নামাজের আগে আরিফ প্রতিবেশী মোশাররফের ঘরে গিয়ে তাকে নামাজ পড়তে যাওয়ার জন্য ডাক দেয়। মোশাররফ বিছানা থেকে উঠতে না চাইলে আরিফ তাকে একটি চড় মারে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোশাররফ শিশুর বুকে সজোরে লাথি মারলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনা ধামাচাপা দিতে রাতে মরদেহটি বাড়ির পাশের খালে ফেলে দেয় অভিযুক্ত।
নিহতের বাবা আনিছ রাঢ়ী জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে আরিফ নিখোঁজ ছিল। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা খালের পাড়ে তার নগ্ন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে মোশাররফকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

আরিফের পরিবারের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কেবল নামাজের ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ কাজ করতে পারে। নিহতের বাবার অভিযোগ, রাতে যখন তারা ছেলেকে খুঁজছিলেন, তখন মোশাররফ তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, “মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত মোশাররফকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”