বিচারিক প্রক্রিয়া আরও সহজ ও গতিশীল করতে একটি পৃথক শিশু আদালত উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় যশোর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পঞ্চম তলায় ফিতা কেটে এই নতুন আদালতের শুভ উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এস এম এরশাদুল আলম।
আইন ও বিচার বিভাগের এসআরসি প্রকল্পের আওতায় এবং ইউনিসেফ (UNICEF)-এর আর্থিক সহযোগিতায় এই বিশেষ আদালতটি স্থাপন করা হয়েছে।
‘শিশু আইন-২০১৩’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা
আদালত উদ্বোধনের আগে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সেমিনার কক্ষে দুই দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ‘শিশু আইন-২০১৩’ শীর্ষক এই কর্মশালায় জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি ও যশোরের প্যানেল আইনজীবীরা অংশ নেন। যশোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এস এম মোর্শেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব এস এম এরশাদুল আলম।
বক্তব্যে এস এম এরশাদুল আলম শিশু বিচার ব্যবস্থার অনন্য বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন:
শিশু বিচার ব্যবস্থা এবং সাধারণ ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
*ম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও থানার কার্যক্রমে শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ আইনগত দিকনির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।
বিশিষ্টজনদের আলোচনা
কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন আমন্ত্রিত বিচারকবৃন্দ:
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মাইনুল হক: পারিবারিক সুরক্ষা, বিরোধ মীমাংসা ও প্রবেশন (Probation) ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক ড. আতোয়ার রহমান: শিশুর আইনগত প্রতিনিধিত্ব, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিকল্প পরিচর্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এই দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় মোট ৩০ জন প্যানেল আইনজীবী অংশগ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পৃথক এই শিশু আদালত এবং আইনজীবীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিশুদের অধিকার রক্ষা ও দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বড় ভূমিকা রাখবে।



















