০৮:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর ও উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টির অঙ্গীকার বিএনপির

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:০৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫১১

ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যাপক সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণ, উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টি এবং সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা কালে এসব তথ্য জানান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারে প্রধান প্রতিশ্রুতিসমূহ
বিএনপির ঘোষিত ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে আমূল পরিবর্তনের আভাস দেওয়া হয়েছে। ‘জুলাই সনদ’ ও ‘৩১ দফা’র ভিত্তিতে সংস্কারের অঙ্গীকার করে দলটি জানায়:
* ক্ষমতার ভারসাম্য: প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময়সীমা টানা দুই মেয়াদ বা সর্বোচ্চ ১০ বছর করা হবে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় ‘উপ-রাষ্ট্রপতি’ পদ পুনরায় সৃজন করা হবে।
* সংসদীয় সংস্কার: জাতীয় সংসদে একটি ‘উচ্চকক্ষ’ প্রবর্তন করা হবে এবং সেখানে ২০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের প্রথা চালু করা হবে।
* সংবিধান ও বিচার বিভাগ: সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন করা হবে। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতসহ সংবিধানের বিতর্কিত ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
* তত্ত্বাবধায়ক সরকার: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় বহাল করা হবে।

ইশতেহারে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সত্ত্বা নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন:
> “আমাদের একটাই পরিচয়—আমরা সবাই বাংলাদেশি। ধর্ম-বর্ণ, পাহাড়-সমতল কিংবা ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে একটি অখণ্ড জাতীয় সত্ত্বা গড়ে তোলা হবে।”

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে অতীতের রাজনৈতিক বিভাজন ও ক্ষত দূর করতে একটি ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি।
অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার ও ভোটাধিকার
বিএনপি জানায়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যেসব রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে, তাদের সঙ্গে নিয়েই একটি জনকল্যাণমূলক সরকার গঠন করা হবে। ভোটকে রাষ্ট্রক্ষমতার একমাত্র বৈধ উৎস হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে ইশতেহারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

সর্বাধিক পঠিত

শার্শার উলাশীতে নুরুজ্জামান লিটনের সমর্থনে ধানের শীষের বিশাল পথসভা ও মিছিল

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর ও উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টির অঙ্গীকার বিএনপির

আপডেট: ০৭:০৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যাপক সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণ, উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টি এবং সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা কালে এসব তথ্য জানান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারে প্রধান প্রতিশ্রুতিসমূহ
বিএনপির ঘোষিত ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে আমূল পরিবর্তনের আভাস দেওয়া হয়েছে। ‘জুলাই সনদ’ ও ‘৩১ দফা’র ভিত্তিতে সংস্কারের অঙ্গীকার করে দলটি জানায়:
* ক্ষমতার ভারসাম্য: প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময়সীমা টানা দুই মেয়াদ বা সর্বোচ্চ ১০ বছর করা হবে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় ‘উপ-রাষ্ট্রপতি’ পদ পুনরায় সৃজন করা হবে।
* সংসদীয় সংস্কার: জাতীয় সংসদে একটি ‘উচ্চকক্ষ’ প্রবর্তন করা হবে এবং সেখানে ২০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের প্রথা চালু করা হবে।
* সংবিধান ও বিচার বিভাগ: সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন করা হবে। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতসহ সংবিধানের বিতর্কিত ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
* তত্ত্বাবধায়ক সরকার: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় বহাল করা হবে।

ইশতেহারে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সত্ত্বা নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন:
> “আমাদের একটাই পরিচয়—আমরা সবাই বাংলাদেশি। ধর্ম-বর্ণ, পাহাড়-সমতল কিংবা ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে একটি অখণ্ড জাতীয় সত্ত্বা গড়ে তোলা হবে।”

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে অতীতের রাজনৈতিক বিভাজন ও ক্ষত দূর করতে একটি ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি।
অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার ও ভোটাধিকার
বিএনপি জানায়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যেসব রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে, তাদের সঙ্গে নিয়েই একটি জনকল্যাণমূলক সরকার গঠন করা হবে। ভোটকে রাষ্ট্রক্ষমতার একমাত্র বৈধ উৎস হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে ইশতেহারের অন্যতম অগ্রাধিকার।