০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত ৫০, বহু নারী ও শিশু অপহৃত

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫১০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক |
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে সশস্ত্র বন্দুকধারীদের ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৫০ জন গ্রামবাসী নিহত হয়েছেন। এই বর্বরোচিত হামলায় অসংখ্য নারী ও শিশুকে অপহরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

জামফারা রাজ্যের বুক্কুয়ুম এলাকার তুংগান দুতসে গ্রামে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই হামলা শুরু হয় এবং শুক্রবার সকাল পর্যন্ত তাণ্ডব চলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলাকারীরা দেড় শতাধিক মোটরসাইকেলে করে গ্রামে ঢুকে পড়ে। তারা নির্বিচারে গুলি বর্ষণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং বাসিন্দাদের ধরে নিয়ে যেতে থাকে।
বুক্কুয়ুমের স্থানীয় আইনপ্রণেতা হামিসু এ. ফারু রয়টার্সকে জানান, “সন্ত্রাসীরা একের পর এক গ্রামে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অপহৃতদের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি, তবে নিখোঁজদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।”

হামলায় বেঁচে যাওয়া ৪১ বছর বয়সী আবদুল্লাহি সানি অভিযোগ করেন, হামলার একদিন আগেই তারা এলাকায় প্রায় ১৫০টি মোটরসাইকেলে সশস্ত্র ব্যক্তিদের আনাগোনা দেখে নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু সময়মতো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “গতকাল কেউ ঘুমাতে পারেনি। আমরা সবাই চরম কষ্টে আছি। এই হামলায় আমি আমার পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়েছি।”

নাইজেরিয়ার উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী ও বিদ্রোহী যোদ্ধাদের হুমকির মুখে রয়েছে। গত সপ্তাহেও নাইজার রাজ্যের বোরগু এলাকায় ৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, যার মধ্যে কনকোসো গ্রামেই ৩৮ জনকে গলা কেটে বা গুলি করে হত্যা করা হয়।
বোরকা হারামসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর দমনে নাইজেরিয়া সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে। ডিসেম্বরে সোকোটো রাজ্যে মার্কিন বিমান হামলার পর এই সপ্তাহের শুরুতে ১০০ জন মার্কিন সেনা স্থানীয় বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য দেশটিতে পৌঁছেছে।
নাইজেরিয়ার ডিফেন্স হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র সামাইলা উবা জানিয়েছেন, মার্কিন সেনারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও প্রযুক্তিগত সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে নাইজেরীয় বাহিনীকে শক্তিশালী করবে।
সূত্র: আল-জাজিরা

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে চুরির অপবাদে মানসিক ভারসাম্যহীন শামীম হত্যা: অন্যতম আসামি ইসমাইল গ্রেফতার

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত ৫০, বহু নারী ও শিশু অপহৃত

আপডেট: ০৩:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক |
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে সশস্ত্র বন্দুকধারীদের ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৫০ জন গ্রামবাসী নিহত হয়েছেন। এই বর্বরোচিত হামলায় অসংখ্য নারী ও শিশুকে অপহরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

জামফারা রাজ্যের বুক্কুয়ুম এলাকার তুংগান দুতসে গ্রামে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই হামলা শুরু হয় এবং শুক্রবার সকাল পর্যন্ত তাণ্ডব চলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলাকারীরা দেড় শতাধিক মোটরসাইকেলে করে গ্রামে ঢুকে পড়ে। তারা নির্বিচারে গুলি বর্ষণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং বাসিন্দাদের ধরে নিয়ে যেতে থাকে।
বুক্কুয়ুমের স্থানীয় আইনপ্রণেতা হামিসু এ. ফারু রয়টার্সকে জানান, “সন্ত্রাসীরা একের পর এক গ্রামে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অপহৃতদের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি, তবে নিখোঁজদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।”

হামলায় বেঁচে যাওয়া ৪১ বছর বয়সী আবদুল্লাহি সানি অভিযোগ করেন, হামলার একদিন আগেই তারা এলাকায় প্রায় ১৫০টি মোটরসাইকেলে সশস্ত্র ব্যক্তিদের আনাগোনা দেখে নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু সময়মতো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “গতকাল কেউ ঘুমাতে পারেনি। আমরা সবাই চরম কষ্টে আছি। এই হামলায় আমি আমার পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়েছি।”

নাইজেরিয়ার উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী ও বিদ্রোহী যোদ্ধাদের হুমকির মুখে রয়েছে। গত সপ্তাহেও নাইজার রাজ্যের বোরগু এলাকায় ৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, যার মধ্যে কনকোসো গ্রামেই ৩৮ জনকে গলা কেটে বা গুলি করে হত্যা করা হয়।
বোরকা হারামসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর দমনে নাইজেরিয়া সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে। ডিসেম্বরে সোকোটো রাজ্যে মার্কিন বিমান হামলার পর এই সপ্তাহের শুরুতে ১০০ জন মার্কিন সেনা স্থানীয় বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য দেশটিতে পৌঁছেছে।
নাইজেরিয়ার ডিফেন্স হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র সামাইলা উবা জানিয়েছেন, মার্কিন সেনারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও প্রযুক্তিগত সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে নাইজেরীয় বাহিনীকে শক্তিশালী করবে।
সূত্র: আল-জাজিরা